India

'স্কাই'কে ছেঁটে ফেলল ভারত: বাদ পড়লেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার

ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বিতর্কিতভাবে অধিনায়কত্ব হারানোর পাশাপাশি স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন সূর্যকুমার যাদব। অফফর্ম ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনার দোহাই দিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভারতকে চরম বিপাকে ফেলে দিয়েছে।

'স্কাই'কে ছেঁটে ফেলল ভারত: বাদ পড়লেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার
Cricket News: Suryakumar Yadav has finally opened up on the shock of losing his place in the Indian team just months after leading the side to the T20 World Cup tit. | Photo: Times of India / © Times of India Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় অধিনায়কত্ব তো গেছেই, জাতীয় দল থেকেও ছেঁটে ফেলা হয়েছে সূর্যকুমার যাদবকে। ভক্তদের কাছে যিনি 'স্কাই' নামে পরিচিত, সেই টি-টোয়েন্টি তারকার এমন আকস্মিক বিদায়ে ভারতীয় ক্রিকেটে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভাবনীয় এক সাফল্যের পরপরই নেওয়া এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ভারতের এই মারকুটে ব্যাটার নিজেই নিজের বিস্ময় চেপে রাখতে পারেননি। বাদ পড়ার খবরটা শোনার পর তিনি শুধু 'হেসেছিলেন' বলে জানান। অধিনায়ক হিসেবে প্রায় নিখুঁত রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও এমন আকস্মিক দলছুট হওয়াটা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিনই ছিল। স্বীকার করেছেন, সিদ্ধান্তটি তাঁকে 'খানিকটা কষ্ট দিয়েছে', বিশেষ করে যখন ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন বুনছিলেন তিনি।

সূর্যকুমারের নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক সোনালী সময় পার করেছে ভারত। তাঁর অধীনে ৫০ ম্যাচের মধ্যে ৪২টিতেই জয় পায় দল, জয়ের হার অবিশ্বাস্য ৮০ শতাংশ! দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনি ছিলেন অপরাজিত। এই সাফল্যের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০২৬ সালের ৮ মার্চ, যখন নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ভারত ঘরে তোলে নিজেদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি।

আহমেদাবাদের সেই ফাইনালে সানজু স্যামসনের ৪৬ বলে ৮৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ২৫৫/৫ রানের পাহাড় গড়েছিল ভারত। এর আগে ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকেও আটকে দিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল সূর্যকুমারের 'মেন ইন ব্লু'রা।

প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এই সিদ্ধান্তকে 'কঠিন' বলে মেনে নিলেও পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্রকে সামনে রেখে 'পুনর্মূল্যায়নের' ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি টেনে এনেছেন সূর্যকুমারের সাম্প্রতিক ব্যাটিং খরাকে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৩৬.৭২ স্ট্রাইক রেটে সূর্যকুমারের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২৪২ রান, যার মধ্যে আমেরিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসটি ছাড়া বলার মতো আর কিছুই ছিল না, যা তাঁর স্বাভাবিক বিধ্বংসী রূপের সাথে একেবারেই অমিল।

ব্যক্তিগত এই অফফর্ম আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০২৬ আইপিএলে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৩ ইনিংসে ২০.৭৬ গড় ও ১৪৭.৫৪ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন মাত্র ২৭০ রান। সূর্যকুমার নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচকরা কথা বলার সময় এই আইপিএল পারফরম্যান্সের বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন।

সূর্যকুমারকে বাদ দেওয়ার পরপরই মাঠে চরম বিপাকে পড়েছে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের অধীনে আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে দল। টানা সাত ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা ভারত এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।

আইসিসি বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের পুরস্কার দুবার জেতা সূর্যকুমার অবশ্য প্রকাশ্যে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। নির্বাচকদের ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের ক্রিকেটের প্রতি নিজের অবিচল দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কঠোর পরিশ্রম করে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন 'স্কাই'। বিসিসিআই-ও ইঙ্গিত দিয়েছে, রান খরা কাটিয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারলে আবারও জাতীয় দলের দরজা খুলতে পারে তাঁর জন্য।