Bangladesh Cricket

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর বড় জুটির আক্ষেপ তাসকিনের

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্রেগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলরের দেড়শ রানের জুটিই বাংলাদেশকে ডুবিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

Cricraze Desk
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর বড় জুটির আক্ষেপ তাসকিনের
আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কথা বলছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ছবি: চ্যানেল আই

আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে টিম টাইগার্স। শুরুতেই মাত্র ২৪ রানে প্রতিপক্ষের তিন উইকেট তুলে নিলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের শুরুতে ২৪ রান খরচ করে জিম্বাবুয়ের প্রথম তিন ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। তবে সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আফ্রিকান দেশটি। দলের ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ৪১ বছর বয়সী ক্রেগ আরভিন এবং ৪০ বছর বয়সী ব্রেন্ডন টেলরের গড়া দেড়শ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।

দলের পক্ষে টেলর ১০১ বলে ৮১ এবং আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ১৭৬ বলে ১৫০ রানের বড় জুটির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে হতাশা প্রকাশ করেন দুর্দান্ত বোলিং করা পেসার তাসকিন আহমেদ। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয় না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরে তাঁর কণ্ঠে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আসলে ম্যাচ হারলে সেটাই সব থেকে বড় দুঃখজনক একটা খেলোয়াড় বা দলের জন্য। মানে যতই তিন উইকেট বা পাঁচ উইকেট পাই, ম্যাচ না জিতলে কখনোই সেটা লাভ হয় না।’

পিচের আচরণ ও মাঝপথের জুটির প্রভাব সম্পর্কে তাসকিন আরও বলেন, ‘শুরুটা খুব দারুণ হয়েছিল। এটাও ঠিক যে পিচটা বেশ ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য। কিন্তু, তাদের মাঝখানে যে বড় একটা জুটি হল, সেটা আসলে অনেক। শুরুর ব্রেক থ্রু’র পর মাঝখানে আসলে একটু লম্বা জুটি হয়ে যাওয়ায় ওরা অনেকটা এগিয়ে যায়। জুটিটা ভাঙার পর আমার মনে হয়েছিল একটা ভালো স্কোরে আটকানো সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পরে আর জেতা হল না।’

দলে একজন বোলারের ঘাটতি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন এই পেসার। তিনি বলেন, ‘সেটা একটা কারণ। দেখেন না, কী দুর্ভাগ্য, মিরাজের জ্বর, সে খেলে নাই। ও আমাদের ওয়ানডের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়। কিন্তু বাকিরাও যারা খেলেছেন, তারাও কিন্তু যথেষ্ট যোগ্য। আজকে আর হয় নাই। এই পিচটা দেখেছিলেন কয়দিন আগে, আফগানিস্তানের সাথে টেস্টও ড্র হয়েছে, পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক লম্বা সময় খেলা হয়েছিল।’

জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে তাসকিন জানান, ভালো উইকেটে চাপ সামলে কীভাবে বড় জুটি গড়তে হয় তা প্রতিপক্ষ প্রমাণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই পিচটা আসলে রান হওয়ার মতোই, জুটি চাইলেই করা যেত। তারা সেটা করেও দেখিয়েছে। তারা আমাদের ভালো বলগুলা খুব দারুণভাবে সামলেছে। কারণ ওরকম একটা শুরুর পর দারুণভাবে সামলেছে তারা। সেখান থেকে ১০০ রানের বেশি জুটি করছে। জিম্বাবুয়ে আসলে দেখিয়েছে ভালো পিচে যতই চাপ থাক, জুটি করলে যেকোনো দলের একটা ভালো স্কোর করা সম্ভব।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। আবুধাবিতেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।