লর্ডসে পাকিস্তানের অসহায় আত্মসমর্পণ: ১১০ রানে গুটিয়ে ইংলিশদের দাপট
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানকে মাত্র ১১০ রানে অলআউট করে চালকের আসনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বিশাল লিড নিয়ে সিরিজ জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেন রুট-রবিনসনরা।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ইংল্যান্ডের মাটিতে লর্ডসে এটি পাকিস্তানের অন্যতম সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এই বিশাল লিড নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় জয় ও সিরিজ নিশ্চিত করার পথে ইংল্যান্ড এখন অনেকটাই এগিয়ে।
আগের দিনের ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড তাদের সংগ্রহ বাড়িয়ে ২৯০ রান পর্যন্ত নিয়ে যায়। তবে আসল নাটক শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে নামার পর। ইংলিশ পেসারদের সুইং আর নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার। বেন ডাকেট দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও, ১৮০ রানের লিড নিয়ে বেশ স্বস্তিতেই দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের টপ অর্ডারে কেউই এদিন জ্বলে উঠতে পারেননি। অধিনায়ক বাবর আজম (৮), শান মাসুদ (১) এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের (৭) মতো তারকা ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়েছেন। কেবল আজান আওয়াজ (১০২ বলে ৪৬) একাই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় তার সেই চেষ্টা যথেষ্ট ছিল না।
ইংলিশ বোলিং আক্রমণে এদিন সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলেন অলি রবিনসন। ১৩ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন তিনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন জোফরা আর্চার (৩ উইকেট) এবং জশ টাং (২ উইকেট)। তাদের সম্মিলিত তোপেই মূলত পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে।
ম্যাচের আগে বাবর আজম ফিটনেস নিয়ে আশ্বস্ত করলেও মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। দলের এমন করুণ দশায় তাদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন মাইকেল ভনের মতো ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে পাকিস্তানের এমন পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের চার উইকেট শিকার করা মোহাম্মদ আব্বাস লর্ডসের প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'এই মাঠটি আমার খুব প্রিয়। ২০১৮ সালে এখানে আমার অভিষেক টেস্টেই আমি ম্যাচ সেরা হয়েছিলাম।' দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার ওপর জোর দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
মাঠের বাইরের বিতর্ক কাটিয়ে এই ম্যাচটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ। অধিনায়ক জো রুটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সতীর্থরা যেভাবে মাঠে নিজেদের মেলে ধরেছেন, তাতে তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। বড় লিড নিয়ে সিরিজ জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হোয়াইটওয়াশ এড়ানো এবং নিজেদের আত্মসম্মান ফিরিয়ে আনা।