Bangladesh Cricket

প্রত্যাশা আর পরিকল্পনার ফারাক: মিরপুরে পুরোনো ভুল এবং স্পিন ফাঁদ

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আট উইকেটে হারের পর বাংলাদেশের টেস্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ফের বড় ধাক্কা; পুরোনো স্পিন কৌশলে আটকে গেল টাইগাররা।

Cricraze Desk
প্রত্যাশা আর পরিকল্পনার ফারাক: মিরপুরে পুরোনো ভুল এবং স্পিন ফাঁদ
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে রিভিউ চাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া জয় কিংবা ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর পর বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী হয়েছিল। তবে পেস বোলিংয়ের সাফল্য ভুলে পুরোনো ও প্রথাগত স্পিন কৌশলে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা প্রমাণ করেছে যে, দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়লেও মাঠের মানসিকতা এখনো সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি।

মিরপুরের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল স্বাগতিক দল। কিন্তু নিজেদের ব্যাটারদের স্পিন খেলার চিরন্তন দুর্বলতার কথা তারা হিসেবে রাখেনি। গত পাঁচ বছরে মিরপুরে শীর্ষ দলের বিপক্ষে ছয়টি টেস্টের মাত্র একটি জিতেছে টাইগাররা, যা এসেছে চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে পেসার নাহিদ রানার পুরোনো বলের দুর্দান্ত স্পেলের সুবাদে।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য স্পিন মোকাবিলা বরাবরই বড় পরীক্ষা। গত পাঁচ বছরে মিরপুরে স্পিন উইকেটে ৮০টি উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা, যেখানে পেসারদের শিকার ৭৩টি। চলতি টেস্টেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শিকার করেছেন ১৬ উইকেট। বাঁ-হাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান একাই নিয়েছেন ৯টিসহ মোট ১১ উইকেট। বিপরীতে বাংলাদেশের তিন স্পিনার মিলে পেয়েছেন মাত্র আট উইকেট।

দুই দিনে দুটি ব্যাটিং ধস নামিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে ক্যারিবীয়রা। পুরোনো ভুল থেকে টাইগার ব্যাটাররা শিক্ষা নেয়নি, যার খেসারত দিতে হয়েছে বারবার। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পরিচিত ফর্মুলায় ভরসা রাখা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত জানান, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ও নিজেদের সুবিধা মাথায় রেখেই উইকেট প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং স্পিনারদের ওপর তাদের আস্থা এখনো অটুট রয়েছে।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে টার্নিং উইকেটে সফল হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২১ সালের পর থেকে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যার ফলস্বরূপ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টানা তিনটি টেস্ট হারল বাংলাদেশ। এমনকি সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যর্থ হন টাইগার স্পিনাররা। তবুও কৌশল বদলানোর কোনো তাগিদ দেখা যায়নি।

শান্ত নিজেই স্বীকার করেন যে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানে অলআউট হওয়ার পথে মাত্র ৫১ রান তুলতেই শেষ ৭ উইকেট হারানোই ছিল তাদের বড় ভুল। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন সামলানোর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় দল। অন্যদিকে পিচের চরিত্র বুঝে কেমার রোচকে বসিয়ে জোশুয়া বিশপকে একাদশে নিয়ে দারুণ ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।

দলে মুশফিকুর রহীমের অনুপস্থিতি ঢাকাকে কঠিন করে তুলেছিল এবং সিলেট টেস্টে মমিনুল হককে ছাড়া ক্যারিবীয় স্পিন আক্রমণ সামলানো আরও বড় চ্যালেঞ্জ হবে। শান্ত নিজেই স্বীকার করেন যে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের চেয়ে নিজেদের বাজে ব্যাটিংই হারের বড় কারণ।

শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ এবং কাভেম হজের অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসে ভর করে আট উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে এখন নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।