Bangladesh Cricket

ব্যর্থতার ভয়ে আচ্ছন্ন টাইগাররা, মন্তব্য টিম ম্যানেজমেন্টের

ইউএই ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বাংলাদেশের দ্রুত বিদায় দলের ভেতর চাপ সামলানোর ঘাটতি ও ব্যর্থতার ভীতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

Cricraze Desk
ব্যর্থতার ভয়ে আচ্ছন্ন টাইগাররা, মন্তব্য টিম ম্যানেজমেন্টের
ইউএই ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে উইকোট উদযাপনে আফগানিস্তান দল। ছবি: এসিবি

জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ইউএই ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল যখন বাইরে থেকে দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে, তখন কেবলই পুড়তে হয়েছে হাতছাড়া হওয়া সুযোগের আফসোসে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পরও ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল টাইগারদের সামনে, তবে বুধবারের ম্যাচে হারাতে হতো আফগানিস্তানকে।

কিন্তু এর পরিবর্তে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ধস এবং খেলার মোড় ঘোরানোর সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ, আর ম্যাচ হারে সাত উইকেটে। পরাজয়ের ধরণটি ইঙ্গিত দেয় যে দলটির ওপর চাপের বোঝা অনেক বেশি এবং খেলোয়াড়দের মাঝে ব্যর্থতার ভীতি জাঁকিয়ে বসেছে।

দলের এক ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আফগানিস্তান ম্যাচে দলের অ্যাপ্রোচ দেখাটা ভীষণ বেদনাদায়ক ছিল। ম্যাচ চলাকালেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে মানসিক চাপ আর ব্যর্থতার ভয় পুরো দলকে গ্রাস করে ফেলেছে।

আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতে বাংলাদেশের যে আধিপত্য ছিল, তা এখন ম্লান হয়ে গেছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬টি ওয়ানডের মধ্যে ১০টিতে জিতা বাংলাদেশ দল ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে টানা পাঁচটি ম্যাচ হেরে বসেছে। এর ফলে ২৩ দেখায় এখন ১২-১১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে আফগানরা। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েও শেষ সাতটি ওয়ানডের মধ্যে পাঁচটিতে জয় তুলে নিয়েছে।

ম্যাচ শেষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় দলের উচ্চাশা এবং মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় আসর, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে সবাই ট্রফি জিততে চায় এবং সবার মনেই সেই ক্ষুধা থাকে, কিন্তু মাঠের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন ঘটে না।

ব্যাটিংয়ের পরিসংখ্যানও এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৮টি ইনিংসে ৫০ ওভারের আগেই অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সাল থেকে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে, যেখানে ৩৫ ইনিংসের মধ্যে ১৪ বারই পুরো ওভার ব্যাট করা যায়নি।

কৌশলগত অস্থিতিশীলতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আফগানিস্তান ম্যাচে সেরা ৬ জনের মধ্যে চারজনই ছিলেন ওপেনার। গত দুই বছরে চার থেকে সাত নম্বর পজিশনে ১৭ জন ব্যাটারকে পরখ করা হয়েছে, যা দলের স্থায়ী কোনো মিডল অর্ডার গড়ে তুলতে ব্যর্থতার প্রমাণ।

টানা ছয়টি অ্যাওয়ে সিরিজ হার এবং গোছানো মিডল অর্ডাটার না থাকার এই সংকটে দ্রুত সমাধান না টানলে, ব্যর্থতার এই মানসিক ভীতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বড় স্বপ্নগুলোকে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।