Features & Analysis

লর্ডসে আব্বাস-আলী ঝড়ে কোণঠাসা ইংল্যান্ড

লর্ডসের মেঘলা দিনে পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রথম দিনেই কোণঠাসা ইংল্যান্ড। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে জর্ডান কক্স ও জেমি স্মিথের লড়াইয়ের পরও ২৪৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে স্বাগতিকরা।

লর্ডসে আব্বাস-আলী ঝড়ে কোণঠাসা ইংল্যান্ড
Match imagery | Photo: ESPNcricinfo / © ESPNcricinfo Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

লর্ডসের মেঘলা আকাশ আর সিম-বান্ধব পিচের সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগালেন পাকিস্তানের দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা দেরিতে শুরু হলেও, দিনশেষে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২৪৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে সফরকারীরা। যদিও জর্ডান কক্স ও জেমি স্মিথের ফিফটির কল্যাণে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছে ইংলিশরা, তবে পাকিস্তানের দাপট ছিল স্পষ্ট। প্রথম ইনিংস গুটিয়ে নিতে পাকিস্তানের প্রয়োজন এখন মাত্র একটি উইকেট।

টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তান শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। বিশেষ করে আব্বাস ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ৫৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করে তিনি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। এমিলিও গে-কে ফেরানোর পর বেন ডাকেটকে আউট করে নিজের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন আব্বাস। এরপর অধিনায়ক জো রুটকে মাত্র ৪ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে ৩৬ রানেই ৩ উইকেটের বিপর্যয়ে ফেলেন তিনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী। হ্যারি ব্রুকসহ ৬৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪ উইকেটে ৮০ রান।

বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে মিডল অর্ডারে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন জর্ডান কক্স ও জেমি স্মিথ। তিন নম্বরে নেমে ১০৫ বলে ৫৫ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন কক্স। ষষ্ঠ উইকেটে স্মিথের সঙ্গে তার ৬৭ রানের জুটিটিই ইংল্যান্ডকে বড় লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। স্মিথ ৮০ বলে ৬১ রানের আক্রমণাত্মক এক ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ বাড়ান। দিনশেষে নিজের ব্যাটিং নিয়ে স্মিথ বলেন, 'শুরুর দিকে পরিস্থিতি বেশ কঠিন ছিল, আমার জন্যও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। তবে খেলার গতি বদলে ফেলাটা আজ বেশ কাজে দিয়েছে। ইনিংস যত গড়িয়েছে, আমি ততই সাবলীল হয়ে উঠছিলাম।' দিনশেষে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন গাস অ্যাটকিনসন।

পাকিস্তানের বোলাররা দারুণ ছন্দে থাকলেও কিছু ক্যাচ মিসের আক্ষেপ তাদের থাকতে পারে। বিশেষ করে জো রুটকে শুরুতেই জীবন দেওয়ার সুযোগটি নিতে পারলে তারা আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারত। তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজমের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বোলারদের এমন পারফরম্যান্স লর্ডসে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক রেকর্ডের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল। বৃষ্টির কারণে এদিন খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে।