নাহিদ রানাকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা ইয়ান বিশপের
ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিতারকা ইয়ান বিশপ বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন, যেন স্বল্পমেয়াদী সাফল্যের মোহে সম্ভাবনাময় পেসার নাহিদ রানার শারীরিক ফিটনেস ঝুঁকির মুখে ফেলা না হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক গতিতারকা ইয়ান বিশপ বাংলাদেশকে সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদী সাফল্যের পেছনে ছুটে যেন দলের মূল্যবান পেস সম্পদ নাহিদ রানার সঠিক পরিচর্যা অবহেলা করা না হয়। বিশ্ব ক্রিকেটের এই সম্ভাব্য সুপারস্টারকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
চলমান বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশপ গত বৃহস্পতিবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, তাৎক্ষণিক সাফল্যের আশায় এমন কিছু করা যাবে না যা এই গতি তারকার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তীব্র স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং একপর্যায়ে ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হওয়া বিশপ ২৪ বছর বয়সী এই পেস সেনসেশনের জন্য সঠিক শক্তি ও কন্ডিশনিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করে বিশ্বজুড়ে নজর কাড়া রানা ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি, যা এই বিখ্যাত ধারাভাষ্যকারকে হতাশ করেছিল।
বিশপ বলেন, বিশ্বজুড়ে তরুণ পেসারদের আগমন দেখলে বোঝা যায় নাহিদ তাদের বেশিরভাগের মতোই দ্রুতগতির, এমনকি তাদের চেয়েও দ্রুত। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে তাকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই ইনজুরির কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আমি হতাশ হয়েছি। তবে তার স্বাস্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনার তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না, কারণ ফাস্ট বোলিং শরীরকে চরম চাপের মুখে ফেলে।
রানার দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের কাজের চাপের মডেলটির উদাহরণ টেনেছেন বিশপ। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং মেডিকেল স্টাফদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শক্তি বাড়ানোর কাজের মাধ্যমে তাকে প্রস্তুত করতে হবে।
নাহিদ রানা ছাড়াও বাংলাদেশের পেস আক্রমণের গভীরতা নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বিশপ। চলতি প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সময় তিন স্লিপ ও এক গালির আক্রমণাত্মক ফিল্ড সেটআপ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশপ বলেন, আজ হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সময় আমরা স্লিপ কভারের দৃশ্য ধারণ করেছি—তিন স্লিপ ও এক গালি। এটি অস্ট্রেলিয়া বা পুরনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে মানানসই। এখন আমরা সেটি বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রেও দেখছি।
হাসান মাহমুদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও চমৎকার ওয়াবল সিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি বিশপ আশা প্রকাশ করেছেন, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ এবং নাহিদ রানা—এই তিনজন ফাস্ট বোলার একসঙ্গে মাঠে নামার দিনটির জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।