Australia

ক্যানসার জয়ের পর টেস্ট দলে নিক ম্যাডিনসনের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

টেস্টোসটিকুলার ক্যানসার জয়ের মাত্র ১২ মাস পর অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে ডাক পেলেন নিক ম্যাডিনসন।

ক্যানসার জয়ের পর টেস্ট দলে নিক ম্যাডিনসনের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে কাপ ম্যাচে সেঞ্চুরি উদযাপনের সময় নিউ সাউথ ওয়েলসের নিক ম্যাডিনসন। ছবি: জোশ চ্যাডউইক / গেটি ইমেজেস

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে নিক ম্যাডিনসনের অপ্রত্যাশিত অন্তর্ভুক্তি ক্রিকেট মহলে বড় ধরনের চমক তৈরি করেছে। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি যখন এই সুখবরটি জানান, তখন খোদ ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারও সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

তবে জাতীয় দলে এই প্রত্যাবর্তনের চেয়েও গত এক বছরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইটি ছিল অনেক বড়। গত অক্টোবরে কেমোথেরাপির শেষ রাউন্ড শেষ করার মাত্র আট সপ্তাহ পর তাঁকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।

এর আগে ডব্লিউএসিএতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পরপরই ২০২৫ সালের মার্চে তাঁর টেস্টোসটিকুলার ক্যানসার ধরা পড়ে। পরবর্তীতে রোগটি পেটের লসিকা গ্রন্থি এবং ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।

শারীরিক সেই কঠিন লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে ম্যাডিনসন এর আগে জানিয়েছিলেন, স্টেরয়েড ওষুধ এবং হাসপাতালের ব্যস্ত রুটিন কতটা ক্লান্তিকর ছিল। চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চরম ক্লান্তি তাঁর প্রতিদিনের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

পেশাদার ক্রিকেটে ফিরে জংশন ওভালে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ১২৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি। নির্বাচক বেইলি এবং টনি ডেমেইড তাঁর দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা ও স্পিন সামলানোর দক্ষতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই আকস্মিক দলভুক্তির পর থেকেই লজিস্টিকস সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয় বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। সিডনিতে স্থানীয় ক্লাবের ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর পাসপোর্ট ও ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটি রাখা ছিল ব্রায়ান বে’র বাড়িতে।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ এবং স্ত্রী বিয়ানকা ও দুই ছেলে অগাস্ট ও ওয়াইল্ডারের কাছ থেকে বিদায় নিতে শুক্রবার সকালেই ফ্লাইটে চড়েন ম্যাডিনসন। একই সময়ে তাঁর ম্যানেজার সিডনির একটি ক্রিকেট স্টোর থেকে অতিরিক্ত প্যাড ও গ্লাভস সংগ্রহ করেন।

নিজের আগের টেস্ট ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ম্যাডিনসন স্মরণ করেন ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর কঠিন শুরুর দিনগুলো। শুরুর দিকের সেই প্রতিকূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত বিরতির পর ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেফিল্ড শিল্ডে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৫২.৩৭ গড়ে রান করেছিলেন তিনি।