India

বিশ্বকাপজয়ী সূর্যকুমার যাদবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, বিস্ময়ে হতবাক তারকা ব্যাটার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের দুই মাস না পেরোতেই দল থেকে বাদ পড়ায় হতবাক সূর্যকুমার যাদব। বিসিসিআই নির্বাচকদের দাবি, ফর্মের পড়তি ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নেওয়া হয়েছে এই কঠোর সিদ্ধান্ত।

বিশ্বকাপজয়ী সূর্যকুমার যাদবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, বিস্ময়ে হতবাক তারকা ব্যাটার
Suryakumar Yadav finally addresses getting dropped from the India squad | Photo: Hindustan Times / © Hindustan Times Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের দুই মাসও কাটেনি, এর মধ্যেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার খবর শুনে স্তব্ধ সূর্যকুমার যাদব। কেবল বাদই পড়া নয়, অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই তারকা ব্যাটার।

ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জিতেছিল ভারত। সেই জয়ে সূর্যকুমারের ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরো টুর্নামেন্টে ৩০.২৫ গড় ও ১৩৬.৭২ স্ট্রাইক রেটে ২৪২ রান করেছিলেন তিনি, যা ছিল ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৮৪ রানের ইনিংসটি ছিল তার টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

তবে সেই জয়ের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি হঠাৎ করেই দলে বড় ধরনের রদবদল আনে। সূর্যকুমারকে সরিয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য শ্রেয়াস আইয়ারকে অধিনায়ক করা হয় এবং দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয় সূর্যকে।

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার সাথে আলাপচারিতায় সূর্যকুমার বলেন, 'আমি ভাবছিলাম, এটা কীভাবে সম্ভব? এমনটা কী করে হতে পারে? আমরা মাত্রই তো বিশ্বকাপ জিতলাম।' তিনি আরও জানান, প্রথমবার খবরটি শোনার পর অদ্ভুত এক হাসি দিয়েছিলেন, যা মূলত বড় কোনো ধাক্কা সামলানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।

নিজের অধিনায়কত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে অপরাজিত থাকার পরও এমন সিদ্ধান্তে বেশ হতাশ সূর্যকুমার। তিনি জানান, সরকারি ঘোষণার মাত্র দুই-তিন দিন আগে তাকে জানানো হয়েছিল যে, 'এখন অন্য পথে এগোনোর সময় হয়েছে।'

নির্বাচক কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, গত দুই বছর ধরে সূর্যকুমারের ব্যাটিং ফর্মের পড়তি এবং ২০২৫ সালে কোনো হাফ সেঞ্চুরি না থাকা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। এছাড়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় সূর্যকুমারের বয়স ৩৮ হবে, তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বিসিসিআই এমন কঠোর ও আবেগহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে এই আকস্মিক বাদ পড়া নিয়ে ভেঙে পড়েননি সূর্য। দীর্ঘ ৪০-৫০ দিন ঘরে বসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পর স্ত্রীর সমর্থনে নতুন উদ্যমে অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। নিজের কঠোর পরিশ্রমে আবারও জাতীয় দলের দরজা খোলার ব্যাপারে আশাবাদী এই মারকুটে ব্যাটার।