শ্রেয়াস আইয়ারের বিকল্প তিলক ভর্মা, ২০২৭ বিশ্বকাপ ভাবনায় ভারত
২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভারতের রণনীতিতে তিলক ভর্মা গুরুত্বপূর্ণ মিডল-অর্ডার বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছেন, বিশেষ করে শ্রেয়াস আইয়ারের চোটের কারণে। তাঁর বাঁহাতি ব্যাটিং এবং অফ-স্পিন দলকে স্থিতিশীলতা দিতে পারে।

ভারতের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের রণনীতিতে তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তিলক ভর্মা একটি গুরুত্বপূর্ণ মিডল-অর্ডার বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছেন, যা শ্রেয়াস আইয়ারের চোটের উদ্বেগের পর আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর বাঁহাতি ব্যাটিং এবং অফ-স্পিন দক্ষতা দলকে বিশেষ নমনীয়তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ২০২৭ সালের আফ্রিকা বিশ্বকাপের জন্য মিডল-অর্ডারকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শ্রেয়াসের গুরুতর প্লীহা আঘাত, যা তাকে কয়েক মাস মাঠের বাইরে রেখেছে, তা নির্ভরযোগ্য বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
তিলক ভর্মা, যিনি ২০২৩ সালের আগস্টে টি-টোয়েন্টিতে এবং সেপ্টেম্বরে ওয়ানডেতে অভিষেক করেন, দ্রুতই নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। তাঁর বাঁহাতি ব্যাটিং মূলত ডানহাতি ব্যাটারদের নিয়ে গঠিত ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য এনে দেবে।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকার ২০২৩ এশিয়া কাপের দল ঘোষণার সময় তিলক ভর্মাকে "প্রতিশ্রুতিশীল" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং "বাঁহাতি হওয়াটা একটা সুবিধা" বলে উল্লেখ করেছিলেন।
টিম ম্যানেজমেন্ট তিলককে তাঁর ডানহাতি অফ-ব্রেক বোলিং দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে, কারণ টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বোলিং বিকল্পের অভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই বহুমুখী প্রতিভা মূল বোলারদের ওপর চাপ কমাতে এবং দলের গঠনে কৌশলগত নমনীয়তা আনতে সাহায্য করবে।
ওয়ানডে অভিষেকে ৫ রান করলেও, ভর্মা দ্রুতই ২০২৩ সালের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক (৭৭ বলে ৫২ রান) তুলে নেন, যা তাঁর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করে। বর্তমানে তিনি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কোচ গম্ভীর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে তিলকের মতো খেলোয়াড়দের ইনিংসের মেরুদণ্ড হিসেবে খেলতে প্রস্তুত থাকতে হবে, বিশেষ করে যখন দ্রুত উইকেট পড়ে যায়। চাপের মুখে বড় স্কোর গড়তে এই ধরনের স্থিতিস্থাপকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর (অক্টোবরে) এবং এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ তিলকের ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেবে। এই ম্যাচগুলো ২০২৭ সালের আফ্রিকা বিশ্বকাপের জন্য ভারতের চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠনে মূল ভূমিকা পালন করবে।