India

যুব বিশ্বকাপের নায়ক থেকে হারিয়ে যাওয়া তারা: রীতিন্দর সোধির না-বলা গল্প

১৫ বছর বয়সে লর্ডসে দ্যুতি ছড়িয়ে ২০০০ যুব বিশ্বকাপ জেতানো রীতিন্দর সোধির বর্ণিল ক্যারিয়ার থমকে গিয়েছিল মারাত্মক এক পিঠের ইনজুরিতে।

যুব বিশ্বকাপের নায়ক থেকে হারিয়ে যাওয়া তারা: রীতিন্দর সোধির না-বলা গল্প
২০০০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পর উদযাপনে মেতেছেন ভারতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটাররা। ছবি: এক্স ইমেজস

ভারতীয় ক্রিকেটে উদীয়মান তারকাদের উত্থানের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ, তবে অতি কনিষ্ঠ বয়সে রীতিন্দর সিং সোধির মতো প্রভাব ফেলার সুযোগ খুব কম ক্রিকেটারেরই হয়েছে। জুনিয়র পর্যায়ে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দিয়ে দেশের ক্রিকেট মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন এই অলরাউন্ডার।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে ঐতিহাসিক লর্ডসের মাটিতে নিজের আগমনী বার্তা জানান সোধি। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে বল হাতে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮২ রানের ঝলমলে ইনিংসে দলকে অবিস্মরণীয় জয় উপহার দেন তিনি।

এরপর ২০০০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করার পেছনেও তিনি মূল ভূমিকা রাখেন। সতীর্থ যুবরাজ সিং আসরসেরা হলেও অলরাউন্ড নৈপুণ্যে টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন সোধি।

যুবরাজ দ্রুতই জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে বিশ্বক্রিকেটে রাজত্ব শুরু করেন, তবে পিছিয়ে ছিলেন না সোধিও। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ফাইনালে ৬৭ রানের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস ও ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে সিনিয়র পর্যায়ে নিজের মেধার সাক্ষর রাখেন এই তরুণ।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ দ্বিশতক হাঁকানোর নজির গড়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে অপরাজিত ২৫১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু যখনই জাতীয় দলে স্থায়ী আসন গড়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছিল, ঠিক তখনই কাল হয়ে দাঁড়ায় মারাত্মক পিঠের ইনজুরি। ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী এই চোটের কারণে মাত্র ১৮টি ওয়ানডেতেই থমকে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক পথচলা।

অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির নিষ্ঠুরতায় অকালেই ঝরে যাওয়া সোধির এই পথচলা এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম ট্র্যাজিক অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।