চার শূন্য থেকে টেস্ট সেঞ্চুরি: যেভাবে জবাব দিলেন লিটন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ পাঁচ ইনিংসে চারবার শূন্য রানে আউট হওয়ার পর, আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ফর্মে ফিরেছেন লিটন দাস।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিনে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এটি ছিল তার পক্ষ থেকে এক দারুণ ও সময়োপযোগী জবাব। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের সিরিজেও ব্যক্তিগতভাবে দুঃসময় পার করেছিলেন লিটন, যেখানে ব্যাটিং করার সুযোগ পাওয়া তিন ইনিংসেই তিনি খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।
এশিয়ান গেমস টি-টোয়েন্টিতেও এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং তিনি আরও একটি শূন্য রান করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শেষ পাঁচ ইনিংসে চারবার শূন্য রানে আউট হওয়ায় ডানহাতি এই ব্যাটারকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা ও চাপ তৈরি হয়েছিল। গণমাধ্যমের কঠিন প্রশ্ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার মুখে আবুধাবিতে ফর্মে ফেরার তাগিদ ছিল তার সামনে।
প্রথম ইনিংসে ধৈর্যশীল ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে চমৎকার ১০২ রান করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন লিটন। সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে গড়ে ওঠা ১৪৯ রানের দারুণ জুটি আফগান বোলারদের হতাশ করে এবং বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসায়। এই সেঞ্চুরিটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জনই ছিল না, বরং দলের জন্যও ছিল স্বস্তির।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও সমানতালে উজ্জ্বল ছিলেন লিটন, যা দলে তার অপরিহার্য অবদানকে আবার প্রমাণ করেছে। এই টেস্টেই পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রান পূর্ণ করার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
আবুধাবিতে খাতা খোলার পর তার চেহারায় যে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছিল, তা সহজেই সমর্থকদের মন জয় করে নেয়। সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ১১৭ বলের ইনিংসে ১৪টি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি এবং ছয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে দলের দায়িত্ব কাঁধে নেন।
যদিও ফিফটিগুলোকে শতকে রূপান্তর করার হার নিয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে, তবে এই ইনিংসটি তার মানের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে। জিম্বাবুয়েকে নিয়ে হতে যাওয়া আসন্ন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে লিটনের এই ফর্ম দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।