Australia

কেয়ারি ও মার্শের নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

পচেফস্ট্রোমে অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল মার্শের ফিফটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪৫ রানের জয় নিয়ে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া।

কেয়ারি ও মার্শের নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া
বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ী ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান অ্যালেক্স কেয়ারি। ছবি: সিডনি সেশিবেদি / গ্যালো ইমেজস / গেটি ইমেজেস

পচেফস্ট্রোমে প্যাট কামিন্সের স্বস্তিদায়ক প্রত্যাবর্তন এবং অ্যাডাম জামপা ও অ্যালেক্স কেয়ারির ফর্মে ফেরার সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়ায় ব্যর্থতার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪৫ রানের জয় তুলে নেয় অজিরা। ফ্লাডলাইটের আলোয় শেষ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ৯ উইকেটে ৩২২ রান। দলের হয়ে পুনরুজ্জীবিত কেয়ারি ৮৮ বলে ৭৪ এবং অধিনায়ক মিচেল মার্শ ঝড়ো ফিফটি হাঁকান। এ ছাড়া তরুণ ওলিয়ে পীক করেন ৪৮ রান। এই মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়াগড়ার কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।

বল হাতে দারুণ ছন্দে ফেরেন জামপা, যিনি ৬ ওভারে মাত্র ৩৪ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। এছাড়া জিভিয়ার বার্টলেট শুরুতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ২৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪৫ রানে আটকে রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে অপরাজিত ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন কেবল রায়ান রিকেলটন।

অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে শুধু বোলার হিসেবে মাঠে ফিরে ৫ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করেন প্যাট কামিন্স। তার এই নিয়ন্ত্রিত বোলিং ইঙ্গিত দেয় যে আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মার্শ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪২ বলে ৫৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা এই সিরিজে তার তৃতীয় অর্ধশতক। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে মিলে তিনি মাত্র প্রতি ওভারে নয় রান করে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৭৮ রান।

বির্ন ফরটুইন ও জেরাল্ড কোয়েটজির বলে শুরুর দিকে উইকেট হারালেও ২০ বছর বয়সী ওলিয়ে পীক দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪৮ রান করেন। ফরটুইনের অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচে তার ইনিংস থামে। ম্যাট রেনশ ৩০ রান যোগ করেন এবং কেয়ারি ইনিংসের হাল ধরে ১৭ ইনিংস পর নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।

ক্যামেরন গ্রিন ম্যাচের সময় বেশ কঠিন মুহূর্ত পার করেন। করবিন বশের একটি বিপজ্জনক ফুলটস পেটে লাগার পরের বলেই দারুণ ছক্কায় তা শোধ করেন তিনি। তবে পরের বলেই শর্ট বলের শিকার হয়ে পেশির চোটে পড়েন এই অলরাউন্ডার।

নাথান এলিস ও জ্যাক এডওয়ার্ডসের অনুপস্থিতিতে আগে থেকেই কিছুটা খর্বশক্তির বোলিং আক্রমণে গ্রিনের চোটের কারণে বিকল্প কমে যায়। তবে বার্টলেট ও জামপার শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে প্রোটিয়ারা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথিউ ব্রিৎজকে ২৫ রানে স্টাম্পড করান জামপা এবং ট্রিস্টান স্টাবসকে ১৪ রানে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির হানার আগেই জয়ের পথে অনেকদূর এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।