খাঁটি অলরাউন্ডারের খোঁজে ক্রিকেট বিশ্ব: মার্কো ইয়ানসেনের উত্থান
দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেনের পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খাঁটি অলরাউন্ডারের দুষ্প্রাপ্যতার বিষয়টি।

ল্যাবরেটরিতে কোনো ক্রিকেটার তৈরি করলে তার অবয়ব হয়তো মার্কো ইয়ানসেনের মতোই হতো। ছয় ফুট আট ইঞ্চি দীর্ঘ এই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার অতিরিক্ত বাউন্স, গতি ও সুইংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ছক্কা হাঁকানো কিংবা দলের বিপদ সামলানোর বিরল ক্ষমতার অধিকারী। তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে এই প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের টেস্ট উইকেট সংখ্যা ছিল ৯৯টি, যার গড় ২০.৮১।
গেকেবেরহায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তার আসল রূপ দেখা যায়। দল ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, সেখান থেকে দুর্দান্ত এক ইনিংসে ৮৫ রান করে দলকে ইনিংসে জয় এনে দেন তিনি। ব্যাটিংয়ে এখনও উন্নতির অবকাশ রয়েছে, তবে এর আগের টেস্ট গড় ২৫.৬৬ তার বিশাল সম্ভাবনার কথাই জানান দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ইয়ানসেন। অতীতে মাইক প্রোক্টর, শন পোলক, ল্যান্স ক্লুজনার এবং ১৩ হাজার ২৮৯ রান ও ২৯২ উইকেটের মালিক জ্যাক ক্যালিসের মতো তারকারা প্রোটিয়া ক্রিকেটের এই বহুমুখী সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমান প্রজন্মে সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন ইয়ানসেন ও উইয়ান মুল্ডার।
তবে সত্যিকার অর্থে অলরাউন্ডার কাকে বলে, তা কেবল পরিসংখ্যানের গণ্ডিতে মাপা যায় না। বিশ্লেষক জাররড কিম্বারের মতে, একজন প্রকৃত অলরাউন্ডার পুরো দলের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেন। মূল প্রশ্ন হলো—ব্যাট কিংবা বল, যেকোনো একটি দক্ষতার জোরেই কি ওই ক্রিকেটার একাদশে জায়গা পেতে পারেন?
সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট শিকারের মতো বিরল কীর্তি, যা মাত্র ২৯ জন খেলোয়াড় মিলে ৪১ বার করেছেন। ইয়ান বোথাম একাই এই কীর্তি গড়েছেন পাঁচবার। তার সাথে রিচার্ড হ্যাডলি, ইমরান খান ও কপিল দেবের মতো কিংবদন্তিরা ছিলেন সেই স্বর্ণযুগের প্রতীক।
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া দল দীর্ঘকাল ধরে এমন ম্যাচজয়ী অলরাউন্ডারদের খোঁজ করে গেছে। ইংলিশরা বোথাম, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ বা বেন স্টোকসের মতো বিদ্রোহী চরিত্র পছন্দ করলেও অস্ট্রেলিয়া পেয়েছে কিথ মিলার কিংবা অ্যালান ডেভিডসনের মতো গ্রেটদের। তবে দুই বিভাগেই দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন।
শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট মাঠে ব্যাটে-বলে সমান দক্ষ হয়ে ওঠাটাই একজন খেলোয়াড়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। ফাফ দু প্লেসি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে তিনি তার ক্যাপ্টেন্সির সময়ে ইয়ানসেনকে দলে পেতে চেয়েছিলেন। ডেল স্টেইন তাকে বর্তমান বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এখন দেখার বিষয়, একক এক খেলোয়াড় কতগুলো ভূমিকা সাফল্যের সাথে পালন করতে পারেন।