দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে চোটের আঘাতে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দল
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের পথে তিন ক্রিকেটারের চোটে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশ গঠনে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এতে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মারনাস লাবুশেন, কুপার কনলি এবং মিচ মার্শের সামনে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশের শীর্ষ সাত পজিশন নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা। আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হতে যাওয়া অত্যন্ত প্রতীক্ষিত সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে পূর্ণ শক্তির দল গঠনে এখন ঘাম ঝড়াচ্ছে দলের চিকিৎসা স্টাফরা।
সাদা বলের এই সিরিজের শেষ ম্যাচে চোটের কবলে পড়ে স্কোয়াডের একাধিক সদস্য, যা দলের কোচ ও নির্বাচকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ডারবানে প্রথম ওয়ানডেতে আঙুলে চোট পান উইকেটকিপার ব্যাটার জশ ইংলিশ। গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে টেস্ট দলে ফেরার দৌড়ে থাকলেও এই চোট তার সেই সুযোগের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পচেফস্ট্রুমে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ক্যামেরন গ্রিন শর্ট বল খেলতে গিয়ে পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন এবং মাঠ ছেড়ে যান। পরে বোলিং ওয়ার্ম-আপ করার চেষ্টা করলেও ব্যথা না কমায় তিনি আর ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই স্কোয়াডে যোগ হয় আরেক বিপত্তি। স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করার সময় বল আটকাতে গিয়ে কবজিতে মারাত্মক আঘাত পান টেস্ট ওপেনার ম্যাট রেনশ। এছাড়া নাথান এলিস ও জ্যাক এডওয়ার্ডসের চোটের কারণে মারনাস লাবুশেন ও বো ওয়েবস্টারকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে নামতে হয়েছিল।
এই চোটের মিছিল শেষ পর্যন্ত মারনাস লাবুশেনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি কুইন্সল্যান্ডের এই ব্যাটারের তিন নম্বর পজিশন নিয়ে আগে কোনো নিশ্চয়তা দেননি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত।
শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট অভিষেকের পর স্কোয়াডে ফেরা তরুণ কুপার কনলিও এই সুযোগে একাদশে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন। চোট জর্জরিত দল নিয়ে এখন বেশ কৌতূহলী পরিকল্পনা করতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
এরই মধ্যে টেস্ট দলে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ও ওয়ানডে অধিনায়ক মিচ মার্শকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ভারত সিরিজের পর আর টেস্ট খেলেননি মার্শ, তবে বর্তমান ফর্ম তাকে আবারও দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলছে।
কামিন্স জানান, গতির আক্রমণ মোকাবিলা করতে এবং প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা চড়াও হতে মার্শের জুড়ি মেলা ভার। ডারবান টেস্টের আগে এই সমস্যার সমাধান করে সেরা একাদশ সাজানোই এখন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।