খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা ঢাকতে বিতর্ক তৈরির অভিযোগ পিসিবির বিরুদ্ধে
ইংল্যান্ডে পাকিস্তান দলের ভরাডুবির পর ক্রিকেটারদের ফোন বাজেয়াপ্ত ও শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্তের উদ্যোগ নিয়ে তোপের মুখে পড়েছে মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবি।

ইংল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের ভরাডুবির পর ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের দোহাই দিয়ে কড়া তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই বোর্ড এই পথ বেছে নিয়েছে।
মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একাধিক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেসব ফোন থেকে তথ্য স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ক্রিকেট মহলে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাহীনতা, দুর্বল ফিল্ডিং ও ব্যাটিং ধসে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল পাকিস্তান। তবে মাঠের সেই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী হলেও পুরো দায় এখন খেলোয়াড়দের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আড়াল করতেই ক্রিকেটারদের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এখন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে তীব্র অস্বস্তি ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আইনি বা নৈতিক কোনো স্পষ্ট ভিত্তি ছাড়া খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডিভাইসে নজরদারি চালানোয় বোর্ডের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ জাতীয় দলের একাধিক সিনিয়র সদস্য।
আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পিসিবির পেশাদারিত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সমর্থক ও সাবেক তারকারা বলছেন, ব্যর্থতার আসল কারণ চিহ্নিত করার বদলে বিতর্কের জন্ম দেওয়া পিসিবির পুরনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
মহসিন নকভি ও বোর্ড কর্তাদের ওপর এখন চারপাশ থেকে চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের পরিষ্কার বার্তা, ক্রিকেটারদের বলির পাঁঠা বানিয়ে বা সস্তা নাটকীয়তা তৈরি করে পাকিস্তান ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ গলদ ঢেকে রাখা যাবে না।