Bangladesh Cricket

মিশন ২০০: ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদী অফস্পিনার নাঈম

মিরপুরে ব্যাটিং ধসের পর ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশকে ২০০ রানের লিড দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান।

Cricraze Desk
মিশন ২০০: ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদী অফস্পিনার নাঈম
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বোলিং করছেন বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসান। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

মিরপুরে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে খেলা দ্রুত গড়ালেও স্বাগতিকদের জন্য তা পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নেয়। দ্বিতীয় সেশনে সফরকারীদের ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৭ রানের প্রথম ইনিংস লিড নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা সমাপ্তির আগেই স্বাগতিকরা ব্যাটিং ধসে পড়ে।

দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭৯ রান, যা তাদের ১০৬ রানের অনিশ্চিত এক লিডে রাখে। এই উদ্ধার অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান, যিনি বল হাতে ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে আগেই নজর কেড়েছিলেন।

কনকাশন সাব হিসেবে নামা জাকের আলীর সঙ্গে জুটি বেঁধে এখন ব্যাটারদের ভুলের মাশুল শোধ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন নাঈম। ২৬ বছর বয়সী এই বোলার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দলকে দুই শ রানের লিড এনে দিতে পারলে সেটিই হতে পারে জয়ের মূল চাবিকাঠি।

দিনের শুরুতে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়া জুটি ভেঙে নিজের কাজ সফলভাবেই করেন নাঈম। লাঞ্চের ঠিক আগে গ্রিভসকে ৪৬ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন তিনি। এর আগে ৫৬ রান করা তেজনারায়ণ চন্দরপলের ১৮৪ বলের দীর্ঘ ইনিংসের শেষ টানেন শরিফুল ইসলাম।

বিরতির পর শমার জোসেফ, জোমেল ওয়ারিকান ও জেডন সিলসকে দ্রুত ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজ ছেঁটে ফেলেন নাঈম। ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মোক্ষম সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে, তবে টপ অর্ডার সেই সুযোগ হাতছাড়া করে।

ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় অভিজ্ঞ মুমিনুল হককে কনকাশনের কারণে হারিয়ে এমনিতেই চাপে ছিল দল। ফ্লাডলাইটের নিচে শমার জোসেফের বলে শূন্য রানে তানজিদ হাসান সাজঘরে ফেরার পর ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রোস্টন চেজ ধস নামান ইনিংসে।

চেজের ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম বোল্ড হন, এবং পরের বলেই তৌহিদ হৃদয় সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও ১০ রানে এলবিডব্লিউ করেন চেজ। চা-বিরতির পর বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিকান লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে দিলে ৬০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।

এমন বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরে অপরাজিত ১৮ রান করে দিন পার করেন নাঈম ও জাকের। ক্রিজে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে নাঈম জানান, উইকেটের আচরণ বুঝে বলের মেরিট অনুযায়ী খেলা এবং রান সচল রেখে বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের ব্যর্থতার পক্ষে সাফাই গেয়ে নাঈম বলেন, ফ্লাডলাইটের নিচে আলোর মধ্যে বল কখনো সোজা এবং কখনো টার্ন করায় ব্যাটিং করা বেশ কঠিন ছিল। চতুর্থ দিনে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আশাবাদী যে একটি ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারলে যেকোনো কিছু সম্ভব।