England

লর্ডসে ট্যাংয়ের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি ইংল্যান্ডের, পাকিস্তানের চোখ এখন সিরিজে ফেরার

লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শেষ উইকেট জুটিতে জশ ট্যাং ও গাস অ্যাটকিনসনের দৃঢ়তায় পাকিস্তান বোলারদের হতাশ করে ইংল্যান্ড সংগ্রহ করেছে ২৯০ রান। ট্যাং টেস্ট ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৩০ রান করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান।

লর্ডসে ট্যাংয়ের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি ইংল্যান্ডের, পাকিস্তানের চোখ এখন সিরিজে ফেরার
Match imagery | Photo: Daily Star / © Daily Star Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইংল্যান্ডের লেজের সারির ব্যাটাররা। ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৩০ রান করে দলের স্কোর ২৯০-এ নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখেন ১১ নম্বর ব্যাটার জশ ট্যাং। বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে গাস অ্যাটকিনসনের সাথে মিলে ট্যাংয়ের এই লড়াকু ইনিংস স্বাগতিকদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।

প্রথম দিনে ২৪৮ রান নিয়ে দিন শেষ করা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দিনে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল। কিন্তু শেষ উইকেটে ৪৭ রানের জুটিতে স্বাগতিকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সিরিজের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ইংল্যান্ডের জন্য এই রানগুলো ছিল ভীষণ জরুরি।

মূলত পেসার হিসেবে পরিচিত জশ ট্যাং এদিন ব্যাটিংয়ে দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছেন। ৪৮ বলে চারটি বাউন্ডারিতে সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি আগের টেস্ট সেরা ১৯ রানকে ছাড়িয়ে গেছে। লর্ডসে ইতিমধ্যে টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া অ্যাটকিনসন ৪৬ বলে ৪৫ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে চাপে রাখেন। ছয়টি বাউন্ডারি হাঁকানো অ্যাটকিনসনই ছিলেন শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়া খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেওয়া পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ৪ উইকেট শিকারের পরও প্রতিপক্ষের লেজের সারির লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। নিজের পছন্দের ভেন্যু লর্ডস নিয়ে আব্বাস বলেন, “লর্ডস আমার প্রিয় মাঠ। কোচ বলেছিলেন পরিকল্পনায় অটল থাকতে এবং দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিতে। ইংল্যান্ড হয়তো আমাদের ধারণার চেয়ে কিছু রান বেশি করেছে, তবে আমরা সন্তুষ্ট।”

এর আগে প্রথম দিনে মেঘলা আবহাওয়ায় পাকিস্তানের পেসাররা ইংলিশ টপ অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়েছিল। অধিনায়ক বাবর আজমের আমন্ত্রণে বোলিং করতে আসা পাকিস্তান শুরুতেই ৩৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নেয়। আব্বাস ২০ ওভারে ৭৩ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন, মোহাম্মদ আলী নেন ৩ উইকেট। তবে জর্ডান কক্সের ৫৫ ও জেমি স্মিথের ৬১ রানের দুটি হাফ সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।

ইংলিশ ব্যাটার জেমি স্মিথ পিচের অবস্থা নিয়ে বলেন, “পিচ থেকে বোলাররা যথেষ্ট সাহায্য পাচ্ছিল, বল মুভ করছিল। কন্ডিশন বোলারদের পক্ষে ছিল। পাকিস্তান দারুণ বোলিং করেছে এবং প্রমাণ করেছে নতুন বলে উইকেট নিতে পারলে বিপক্ষ দলকে কতটা চাপে ফেলা যায়।”

বাবর আজমের নেতৃত্বে ফেরা পাকিস্তান এই টেস্ট জিতে সিরিজে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে। অন্যদিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড দীর্ঘ দুই বছর পর টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি দেখছে। ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের শেষ ও তৃতীয় টেস্ট।