বয়সভিত্তিক সাফ্যল্যের পর অনিশ্চয়তার মুখে বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবল তারকারা
২০২৩ সালে ভারতকে চমকে দেওয়ার পরও ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভাবে খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন দেশের প্রতিভাবান হ্যান্ডবল তারকারা।

২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের ৪৬টি গোলের মধ্যে ৩৯টিই করেছিলেন এম এস মারফি, রুনা লায়লা ও তানিয়া। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কাউকেই সিনিয়র জাতীয় দলে জায়গা দেওয়া হয়নি।
ভিকারুননিসা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যিনি ক্লাসের অন্যতম সেরা হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন চমৎকার হ্যান্ডবল খেলোয়াড়, ইতিমধ্যেই খেলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বয়সসীমা পেরোলে এই খেলায় ক্যারিয়ার গড়ার কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ না থাকায় তিনি নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছেন।
২০২৩ সালের দলের অংশ থাকা সহকারী কোচ ডালিয়া আক্তার আন্তর্জাতিক ম্যাচের মারাত্মক ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। ২০২২ সালের ইসলামিক সলিডারি গেমসের পর আমরা কয়টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছি? শূন্য, একটিও নয়—ডেইলি স্টারকে এমনটাই জানান তিনি।
২০২৩ সালে একটি জুনিয়র ইভেন্ট আয়োজন করলেও এরপর আর বিদেশে কোনো ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ এবং এ বছরের এশিয়ান ইয়ুথ গেমসেও তারা অংশ নিতে পারেনি। ডালিয়া বলেন, প্রতি দুই-তিন বছরে একবার খেলে ধারাবাহিকতা আশা করা যায় না, কারণ উন্নতির জন্য কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়।
জামালপুরের ডিগ্রি শিক্ষার্থী ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় মিষ্টি খাতুন জানান, খেলোয়াড়দের কোনো নিয়মিত মাসিক বেতন নেই, কেবল টুর্নামেন্ট খেললেই পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ক্যাম্প চলাকালীন খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা হলেও খেলোয়াড়রা নিজ জেলায় ফিরে গেলে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ক্যাম্প চলাকালীন খেলোয়াড়দের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় এবং খাদ্য ও আবাসন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ১৬ জনকে সরকারি ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তবে জাতীয় জার্সি যখন পর্যন্ত জীবিকা অর্জনের নিশ্চয়তা না দেবে, তত দিন মেধাবী নারীদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া বা কম বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঝুঁকি থেকেই যাবে।