Features & Analysis

কোহলিকে টেক্কা দিয়েও জাতীয় দলে ব্রাত্য: ধোনি-সাহা যুগে হারিয়ে যাওয়া শ্রীবৎস গোস্বামী

২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ১১১ গড়ে রান করা শ্রীবৎস গোস্বামী জাতীয় দলে ব্রাত্যই থেকে গেলেন। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও ঋদ্ধিমান সাহার কারণে কীভাবে আড়ালে চলে গেলেন এই তরুণ?

কোহলিকে টেক্কা দিয়েও জাতীয় দলে ব্রাত্য: ধোনি-সাহা যুগে হারিয়ে যাওয়া শ্রীবৎস গোস্বামী
২০০৮ সালে কুয়ালালামপুরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও সতীর্থরা। ছবি: এক্স / ইমেজেস

২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির অধিনায়কোচিত পারফরম্যান্সের গল্প সবারই জানা। কিন্তু সেই বিশ্বজয়ী যুব দলের সর্বোচ্চ সংগ্রাহকদের তালিকায় তৎকালীন অধিনায়ক কোহলিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছিলেন এক বাঙালি তরুণ—শ্রীবৎস গোস্বামী। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের তারকা ভাবা হচ্ছিল এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়েও কোনোদিন জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি তার।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টপ অর্ডারে ব্যাট হাতে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন শ্রীবৎস। টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার পর আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে জেতেন 'ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার'-এর পুরস্কার। যুব বিশ্বকাপ থেকে আইপিএল—সবখানেই নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে শ্রীবৎসের ব্যাট থেকে আসে ১১১.৭৫ গড়ে ৪৪৭ রান। ধারাবাহিকভাবে রান পেয়েও নির্বাচকদের নজর কাড়তে ব্যর্থ হন তিনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পরও জাতীয় দলের দরজা বন্ধই থেকে যায় এই তারকা ক্রিকেটারের জন্য।

শ্রীবৎসের জাতীয় দলে না খেলার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল টাইমিং ও তীব্র প্রতিযোগিতা। সে সময় তিন ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের অধিনায়ক ও একচ্ছত্র উইকেটকিপার হিসেবে রাজত্ব করছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ফলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে সুযোগ পাওয়ার জায়গাটাও ছিল একদম সীমিত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাইরে নিজ রাজ্য বাংলার রঞ্জি দলেও শ্রীবৎসকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে। ধোনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ভারতের এক নম্বর লাল বলের কিপার হয়ে ওঠেন ঋদ্ধিমান। ফলে বাংলা দলেও অনেক সময় শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলতে হতো শ্রীবৎসকে।

পরবর্তী সময়ে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিছু ঝলক দেখালেও, ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিকতার অভাব তাকে আরও পিছিয়ে দেয়। বড় মঞ্চে সম্ভাবনা জাগিয়েও নিয়মিত পারফর্ম করতে না পারাটা তার জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ার অন্যতম কারণ।

ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিভার প্রাচুর্য এবং সঠিক সময়ে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপের এক আদর্শ উদাহরণ শ্রীবৎস গোস্বামী। তার সমসাময়িক কোহলি বিশ্বসেরা ব্যাটার হয়ে উঠলেও, শ্রীবৎসকে ক্যারিয়ার শেষ করতে হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের একজন সম্মানিত ক্রিকেটার হিসেবেই।