কলম্বোয় ড্র করে বড় ধাক্কা খেল ভারত, ক্ষুব্ধ শ্রীকান্ত
কলম্বো টেস্ট ড্র হওয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথে বড় ধাক্কা খেল ভারত। দলটির পয়েন্ট শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫১.৫২-তে। প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করিয়েও জিততে না পারায় ভারতের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় প্রায় হাতের মুঠোয় এনেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভারতকে। সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলেও এই ড্র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে ওঠার স্বপ্নকে অনেকটা ফিকে করে দিয়েছে। ফলো-অন করিয়েও প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে না পারায় হতাশ ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গন।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত সরাসরিই বলেছেন, ভারত বড় ধরনের ভুল করেছে। এই ড্রয়ের ফলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ (পিসিটি) কমে দাঁড়িয়েছে ৫১.৫২-তে, যার ফলে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে তারা এখন পাঁচে নেমে গেছে। প্রথম টেস্টের দাপট ধরে রাখতে না পারাটা ভারতীয় দলের জন্য বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সিংহলী স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দেবদূত পাড়িক্কল (১১৭) এবং ধ্রুব জুরেলের (১১৫*) সেঞ্চুরি, সেই সঙ্গে রিশভ পন্তের দ্রুতগতির ৬৩ রানের সুবাদে ভারত প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের পাহাড় গড়েছিল। এরপর প্রসিধ কৃষ্ণা ও মানব সুথারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে অলআউট করে ফলো-অন করায় ভারত। জয় তখন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কিন্তু শেষ দিনে জয়ের জন্য মাত্র ৪ উইকেট প্রয়োজন হলেও লঙ্কানদের দৃঢ়তার কাছে হার মানে ভারত। শ্রীলঙ্কার তরুণ ব্যাটার সোনাল দিনুশা ২৬৪ বলে অপরাজিত ১৩৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে ভারতকে জয়ের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন। শ্রীকান্তের মতে, ভারতের এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ জাসপ্রিত বুমরাহর মতো কোনো 'ফিনিশিং বোলার'-এর অভাব।
সোনাল দিনুশার এই লড়াইয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন কেশারা নুয়ানথা ও লাহিরু কুমারা। পুরো সিরিজে দিনুশার ফর্ম ছিল অসাধারণ, ৪ ইনিংসে তিনি ৩টি সেঞ্চুরিসহ মোট ৪২৩ রান সংগ্রহ করেছেন।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৮০ শতাংশ পিসিটি নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫%), নিউজিল্যান্ড (৭২.২২%) এবং বাংলাদেশ (৫৫.৫৬%)। ভারতের জন্য পরের পথটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন যে, ড্র হারের মতো বেদনাদায়ক না হলেও দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ভাবছেন। অন্যদিকে, সিরিজ হারলেও এই ড্র শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত করতে ভারতের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাদের হাতে বাকি আছে আরও সাতটি টেস্ট—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি হোম ম্যাচ। শ্রীকান্ত সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ফাইনালের টিকিট পেতে হলে অন্তত পাঁচটি বা ছয়টি টেস্ট জিততেই হবে ভারতকে। সেই সঙ্গে তিনি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অতিরিক্ত টার্নিং পিচ না বানানোর পরামর্শও দিয়েছেন।