শ্রীলঙ্কা সিরিজ জয়ী ভারত: শিখল কঠিন সব পাঠ
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলেও কলম্বো টেস্টের নাটকীয় ড্র ভারতের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। এই ড্র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলেও কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে (এসএসসি) শেষ টেস্টের নাটকীয় ড্র শুভমান গিলের তরুণ দলের জন্য এক কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। এক সময় মনে হচ্ছিল ভারত অনায়াসেই ম্যাচটি জিতে নেবে, কিন্তু শ্রীলঙ্কার লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে সফরকারীদের।
দেবদূত পাডিক্কাল (১১৭) ও ধ্রুব জুরেলের (১১৫*) সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের পাহাড় গড়েছিল ভারত। জবাবে শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ বিতর্কিত। সাধারণত ফলো-অনে পড়লে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু লঙ্কান ব্যাটাররা সেদিন দেখিয়ে দিলেন ঘুরে দাঁড়ানো কাকে বলে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও লঙ্কানদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন সোনাল দিনুশা। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। কেশারা নুয়ানথার (৪৬) সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ৪২৯ রানের সংগ্রহ এনে দেন দিনুশা। শেষ পর্যন্ত ২৭ আগস্ট ম্যাচটি ড্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচ শেষে শুভমান গিল বলেন, 'এটা ঠিক হারের মতো কষ্টদায়ক নয়, তবে প্রথম ইনিংসে ৫০০ রান করার পর যখন প্রতিপক্ষকে ৮ রানে ২ উইকেট ফেলে দিতে পারি, তখন তিন দিনে ১৮ উইকেট নেওয়াটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। অন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা নিশ্চিতভাবেই জয়ের আশা করি।' তবে বিপক্ষ দলের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেছেন গিল, 'যে জায়গা থেকে তারা ম্যাচটি ড্র করেছে, তা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।'
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হয়েছেন দেবদূত পাডিক্কাল। অন্যদিকে, বোলারদের মধ্যে ১৬ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। তবে এই ড্রয়ের ফলে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (২০২৫-২৭) পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে ভারত। ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা কঠিন হয়ে পড়ায় বাকি সাত টেস্টের মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে জয় পাওয়া এখন তাদের জন্য বাধ্যতামূলক।
ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি হিসেবে গিল বৃষ্টির সম্ভাবনা ও পিচ স্লো হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন পূর্ণাঙ্গ সিরিজের আগে এই অভিজ্ঞতা ভারতের তরুণ দলকে নতুন করে গুছিয়ে উঠতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।