লর্ডসে স্বরূপে ফিরল পাকিস্তান, ইংল্যান্ড অলআউট ২৭০ রানে
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত বোলিং তোপে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে আটকে দিয়েছে পাকিস্তান। সিরিজের সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা সফরকারীরা বাবরের ফেরা এবং বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ম্যাচটিতে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মোহাম্মদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি পেস অ্যাটাক যেন ফিরে পেয়েছে তাদের পুরনো ধার। প্রথম দিনের ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ইংল্যান্ডের বাকি অংশটুকু নিতে খুব বেশি সময় নেননি পাকিস্তানি বোলাররা। মেঘলা আকাশের সুবিধা আদায় করে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা। প্রথম টেস্টে শোচনীয় হারের পর এই টেস্টে পাকিস্তানের এমন দাপুটে বোলিং স্বাগতিকদের বেশ চাপের মুখে ফেলেছে।
হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে। ইনজুরি কাটিয়ে অধিনায়ক বাবর আজমের একাদশে ফেরা দলটির জন্য বড় এক মানসিক স্বস্তি হয়ে এসেছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বহুগুণ।
আজ সকালে শেষ জুটির ব্যাটার গাস অ্যাটকিনসন (৩৮) ও জশ টাং (১৮) দলের স্কোর আড়াইশ পার করতে সাহায্য করলেও, প্রথম দিনেই টপ অর্ডারের ধস ইংলিশদের বড় স্কোরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বেন ডাকেট (১৭), এমিলিও গে (৮) ও অধিনায়ক জো রুট (৪) যেভাবে আব্বাসের সুইংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন, তাতে বড় বিপদের আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আজহার আলী এই বোলিং স্পেলের প্রশংসা করে বলেন, 'মোহাম্মদ আব্বাস অসাধারণ ছিল। দলের মোমেন্টাম ঠিক করে দেওয়ার জন্য সেই শুরুর ব্রেক-থ্রুটা খুব জরুরি ছিল। সে দারুণ ছন্দে ছিল। এই ইতিবাচক মানসিকতা পুরো ম্যাচজুড়ে ধরে রাখা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।'
আব্বাস ৬৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দিনসেরা বোলার। তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও মুভমেন্ট ইংলিশ ব্যাটারদের জন্য ছিল ধাঁধার মতো। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী, যিনি ৮০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। লন্ডনের ধূসর আকাশ ও কন্ডিশনের পুরোপুরি ফায়দা তুলেছেন তারা।
প্রথম দিনে ক্যারিয়ারের ৯০০তম প্রথম শ্রেণির উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা আব্বাস আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। এর আগে জেইমি স্মিথ (৬১) ও জর্ডান কক্সের (৫৫) লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ৫ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানের বিপর্যয় কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল।
ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ সারাহ টেলর কন্ডিশন ও পাকিস্তানের বোলিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, 'বল প্রচুর মুভ করছিল এবং কৃতিত্বটা পাকিস্তানের বোলারদেরই দিতে হয়, তারা দারুণ বোলিং করেছে। যখন তারা দ্রুত উইকেটগুলো তুলে নিল, তখন আমরা সত্যিই প্রচণ্ড চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। আমাদের অনেক লড়াই করতে হয়েছে।'
পাকিস্তান এখন নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছে। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে দ্বিতীয় দিনের লড়াই দেখে মনে হচ্ছে, সিরিজের প্রথম ম্যাচের চেয়ে এই টেস্টটি বেশ জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সিরিজ সমতায় ফেরাতে পাকিস্তান যে মরিয়া, তা তাদের আজকের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।