Features & Analysis

এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে দুই দিনে ঐতিহাসিক জয় ইংল্যান্ডের

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দিনের নাটকীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইংল্যান্ড। ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় এটিই তাদের প্রথম টেস্ট জয়।

এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে দুই দিনে ঐতিহাসিক জয় ইংল্যান্ডের
Despite the defeat, Australia continue to lead the Ashes series 3–1. The fifth and final Test begins in Sydney on January 4, where England will seek to build on a rare and morale-boosting breakthrough.

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মাত্র দুই দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় চার উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ২০১১ সালের জানুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের দীর্ঘ খরা অবশেষে কাটল সফরকারীদের। এই জয়টি ইংল্যান্ডের আধুনিক ক্রিকেটের দুই কান্ডারি জো রুট ও বেন স্টোকসের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ায় এটি রুটের ১৮তম এবং স্টোকসের ১৩তম টেস্ট ছিল, যেখানে এর আগে বারবার জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ফিরতে হয়েছিল তাদের।

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পুরো ম্যাচে ব্যাটারদের জন্য বিভীষিকা হয়ে ওঠা পিচে দারুণ লড়াই করে ইংল্যান্ড। সিরিজের আগের ম্যাচগুলোতে ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া ইংলিশ ওপেনাররা এদিন শক্ত ভিত গড়ে দেন। জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৫১ রান। এরপর মিচেল স্টার্কের এক দুর্দান্ত ইয়র্কারে ২৬ বলে ৩৪ রান করে বোল্ড হন ডাকেট।

দ্রুত রান তোলার আশায় তিন নম্বরে ব্রাইডন কার্সকে পাঠালেও সেই কৌশল খুব একটা কাজে আসেনি। এরপর ৩৭ রান করে বিদায় নেন ক্রলিও। তবে অভিষিক্ত জ্যাকব বেথেল দারুণ পরিপক্কতা দেখিয়ে ৪০ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। একপর্যায়ে রুট ও স্টোকস দ্রুত আউট হলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া, তবে জেমি স্মিথ ও হ্যারি ব্রুক ঠান্ডা মাথায় বাকি পথটুকু পাড়ি দেন। ব্রুক ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে ইংল্যান্ডের বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। ট্রাভিস হেড দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন, অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে। তবে চ্যালেঞ্জিং পিচে বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অজিদের দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৭৯.৫ ওভার স্থায়ী হয়, যা ১৯০০ সালের পর থেকে তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন স্থায়িত্ব।

ফলাফলের পাশাপাশি ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এর দ্রুত গতির জন্য। পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টের মতো মেলবোর্নের এই ম্যাচটিও শেষ হয়েছে দুই দিনে। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা মাত্র চতুর্থবার, আর এমসিজিতে ১৯৩১ সালের পর এই প্রথম।

এই হারের পরও অ্যাশেজ সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ৪ জানুয়ারি সিডনিতে শুরু হবে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিডনিতে শেষটা রাঙাতে চাইবে ইংলিশরা।