Bangladesh Cricket

ঘনীভূত সংকট: বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের পথে?

আইসিসির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবছে পাকিস্তান। আইসিসির এমন পক্ষপাতমূলক আচরণে বড় সংকটের মুখে আসন্ন এই টুর্নামেন্ট।

ঘনীভূত সংকট: বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের পথে?
The crisis engulfing the 2026 T20 World Cup has escalated from a diplomatic standoff into a full-blown existential threat for the tournament, as Pakistan formally weighs joining Bangladesh in a boycott.

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এখন কূটনৈতিক অস্থিরতা ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের একক প্রতিবাদের সাথে এবার সংহতি জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। ভারতের মাটিতে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, তা এখন আইসিসির এই বড় আসরকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়ার উপক্রম করেছে।

শনিবার আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ নাকচ করে উল্টো বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে 'অন্যায্য' এবং 'দ্বিমুখী নীতি' বলে অভিহিত করেছেন এবং বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরেছেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নাকভি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে 'সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে'। সূত্র মারফত জানা গেছে, এর মধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানো কিংবা ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কট করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও থাকতে পারে। পিসিবির যুক্তি হলো—নিরাপত্তা অজুহাতে ভারত যদি পাকিস্তানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েও কোনো শাস্তির মুখে না পড়ে, তবে বাংলাদেশের বেলায় আইসিসির এমন কঠোর অবস্থান স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট।

এই বয়কটের পেছনে মূল ভিত্তি হলো সংহতি। নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আইসিসি আমলে না নিলেও, আইপিএলে সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে খেলতে না দেওয়া হয়েছিল বিসিসিআইয়ের চাপে। শহীদ আফ্রিদি এবং জেসন গিলেস্পির মতো ব্যক্তিত্বরা আইসিসির এই 'ভণ্ডামি'র সমালোচনা করেছেন। পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি নিয়েও পিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি এখন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি: ভারত-পাকিস্তান মহারণহীন এক বিশ্বকাপ এবং আইসিসির চরম ভাবমূর্তি সংকট, যা কোনো সূচি পরিবর্তন করেই হয়তো আর কাটানো সম্ভব নয়।