পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের পেস আক্রমণ কিছুটা এগিয়ে: শান্ত
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় পাকিস্তানের পেস আক্রমণের চেয়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ কিছুটা এগিয়ে আছে।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
শুক্রবার মিরপুরের সবুজ ঘাসের উইকেটে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, পাকিস্তানের চেয়ে পেস বোলিংয়ে এখন কিছুটা এগিয়ে আছে তাঁর দল।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ সবসময়ই স্পিননির্ভর দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই পরিচয় বদলে যাওয়ার বড় ইঙ্গিত মিলেছে শান্তর কথায়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে ঘাসের আস্তর দেখে শান্তর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স এবং যেভাবে আমাদের পেসাররা বোলিং করছে, তাতে সম্ভবত আমরা পেস আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে আছি।'
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন নাহিদ রানা। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেই হোক কিংবা ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেওয়া নাহিদ এখন বাংলাদেশের বড় শক্তির জায়গা। শান্ত বলেন, 'নাহিদকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। তার মতো একজন গতিময় পেসার দলে থাকাটা একজন অধিনায়কের জন্য বড় স্বস্তির।'
দলে তাসকিন আহমেদের ফেরা পেস বিভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। চোট ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে ১৭ মাস টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর মেডিকেল টিমের ছাড়পত্র নিয়ে তিনি ফিরছেন। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনের সাথে তাসকিন যোগ দিয়ে তৈরি করেছেন দারুণ এক ভারসাম্যপূর্ণ পেস আক্রমণ।
তবে দুই দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে তুলনার প্রশ্নে বেশ কূটনৈতিক ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। তিনি বলেন, 'প্রতিটি দলেরই নিজস্ব শক্তি আছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য এবং নিজেদের শক্তির জায়গাতেই মনোযোগ দিতে চাই।' তবে বাংলাদেশের বর্তমান পেস লাইনআপকে তিনি স্বাগতিকদের ইতিহাসে 'সম্ভবত সেরা' বলে স্বীকার করেছেন।
পাকিস্তানের পেস আক্রমণও কিন্তু কম শক্তিশালী নয়। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে সফরকারীদের বোলিং আক্রমণে আছেন মোহাম্মদ আব্বাস ও হাসান আলীর মতো নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী বোলাররা।
মিরপুরের উইকেট যদি শেষ পর্যন্ত পেসারদের জন্য সহায়ক হয়, তবে শান্তর দাবি কতটা যৌক্তিক তা প্রমাণ হবে মাঠের লড়াইয়েই। এখন দেখার বিষয়, নাহিদ-তাসকিনরা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী পেস আক্রমণের চেয়ে নিজেদের ছাপিয়ে যেতে পারেন কি না।