শান্তের ঝলমলে শতকে পাকিস্তানের বিপক্ষে চালকের আসনে বাংলাদেশ
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের ৯০ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছে টাইগাররা।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাবলীল সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দিনের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিকরা।
অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে নিজের নবম এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭০ রানের জুটি গড়েন শান্ত। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভ্যাপসা গরমে পাকিস্তানের পেস-নির্ভর বোলিং আক্রমণকে দারুণ দক্ষতায় সামাল দিয়েছেন এই জুটি।
মোহাম্মদ আব্বাসের বলে কাভার ড্রাইভে চার হাঁকিয়ে ১৩০ বলে নিজের শতক পূর্ণ করেন শান্ত। তার ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। ফিফটিকে বড় স্কোরে রূপ দেওয়ার অভ্যাসটা এদিনও দারুণভাবে বজায় রেখেছেন তিনি। চা বিরতির ঠিক আগে আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফিল্ড আম্পায়ার শুরুতে নট আউট দিলেও, রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান।
শান্ত বিদায় নেওয়ার পর মুমিনুল হক দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। নোমান আলীর দ্রুতগতির বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে ৯১ রানে এলবিডব্লিউ হন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
দিনের শেষভাগে দুই উইকেট পড়লেও মুশফিকুর রহিমের অবিচল ব্যাটিংয়ে সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। মুশফিক ৪৮ রানে অপরাজিত আছেন, তার সঙ্গী লিটন দাস ব্যাট করছেন ৮ রান নিয়ে।
এর আগে, মিরপুরের ঘাসের পিচ দেখে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। কিন্তু পিচ থেকে পেসাররা কোনো বাড়তি মুভমেন্ট বা টার্ন পাননি। ইনজুরির কারণে তারকা ব্যাটার বাবর আজমকে ছাড়াই খেলতে নামা পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ ছিল বেশ নিষ্প্রভ। আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজলকে অভিষেক করালেও তাদের পারফরম্যান্সে ছিল না চেনা ছন্দ।
পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস, হাসান আলী এবং নোমান আলী একটি করে উইকেট পেলেও স্বাগতিকদের খুব একটা চাপে ফেলতে পারেননি।
ছয় মাসের বিরতি শেষে টেস্টে ফিরেই বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা দারুণ ফর্মে আছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল টাইগারদের ব্যাটিংয়ে। হাতে ছয় উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনে বড় সংগ্রহের দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; মিরপুরের উইকেটে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যাতে পাহাড়সম সংগ্রহ গড়তে না পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সফরকারীদের।