শান্তের ৮৭ ও সাহসী ডিক্লেয়ারেশন, পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৭ রানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে সাহসী ডিক্লেয়ারেশন দিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা, যা মিরপুরের মরা উইকেটে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে নাজমুল হোসেন শান্তর আক্ষেপ আর সাহসী ডিক্লেয়ারেশনের মিশেলে জমে উঠেছে ম্যাচ। ঐতিহাসিক দ্বিতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শান্ত থামলেন ৮৭ রানে। তবে তার আগেই জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের ঠিক আগে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন টাইগার অধিনায়ক। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে শেষ দুই সেশনে প্রায় ৭৫ ওভার পাচ্ছে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন উজ্জ্বল। ১৫০ বলে ৮৭ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলেন তিনি। নোমান আলীর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগ পর্যন্ত একপ্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মুমিনুল হক, যার ব্যাট থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিডসহ সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য এখন ২৬৮ রানের।
মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের উইকেটে পাকিস্তানের বোলাররা বেশ ছন্দে ছিলেন। হাসান আলী ৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারে ধস নামান। এছাড়া নোমান আলী ৭৬ রানে নেন ৩ উইকেট, যার মধ্যে শান্তর উইকেটটি ছিল অন্যতম। শাহিন শাহ আফ্রিদি নিয়েছেন ২ উইকেট। তবে বোলাররা উইকেট পেলেও বাংলাদেশের রান তোলার গতি থামাতে হিমশিম খেতে হয়েছে সফরকারীদের।
চতুর্থ দিন বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ড্রয়ের শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ শেষ দিনে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার বার্তা দিয়েছে। মিরপুরের উইকেটে এখন বল যেমন টার্ন করছে, তেমনি বাউন্সেরও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ দিনে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্পিনারদের জন্য দারুণ সুযোগ থাকে। মিরাজ ও তাইজুল ইসলামদের ঘূর্ণি জাদুতে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপের ধস নামার অপেক্ষায় স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজই এখন পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। তৃতীয় দিনে মাত্র ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের জন্য ২৬৮ রান তাড়া করা হবে অগ্নিপরীক্ষার মতো। প্রতি ওভারে প্রায় সাড়ে তিন রান করে তুলতে হবে পাকিস্তানকে, কিন্তু তাসকিন আহমেদসহ পেসারদের অসামঞ্জস্য বাউন্স এবং উইকেটের টার্ন জয়ের পথ কঠিন করে তুলছে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। শেষ দুই সেশনে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বাংলাদেশ, অন্যদিকে স্পিন স্বর্গ মিরপুরে টিকে থাকতে বা লক্ষ্য স্পর্শ করতে পাকিস্তানকে লড়তে হবে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে।