নাঈদ রানার বিধ্বংসী ৫ উইকেট, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ল টাইগাররা।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
মিরপুরের উইকেটে নাহিদ রানার আগুনের গোলার মতো গতি আর নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে দাঁড়াতেই পারল না পাকিস্তান। শেষ দিনে বল হাতে বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ১০৪ রানের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেছেন এই তরুণ পেসার। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব গড়ল বাংলাদেশ, যা ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির জানান দিচ্ছে।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৬৮ রান, কিন্তু উইকেট ভাঙার আগেই রানার গতির ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। দিনের কড়া রোদে পিচ থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিয়েছেন রানা। শেষ পর্যন্ত ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
সকাল থেকেই পাকিস্তানের টপ অর্ডারকে চাপে রাখেন রানা। দলীয় ২ রানেই অধিনায়ক শান মাসুদকে সাজঘরে ফেরান তিনি। রানার একটি ডেলিভারি সিম থেকে সোজা হয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়লে বিদায় নেন মাসুদ। যদিও আব্দুল্লাহ ফজল ৬৬ রানের এক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দুপুরের খাবারের বিরতির পর রানা ফিরতেই পাকিস্তানের সব আশা শেষ হয়ে যায়।
সাউদ শাকিলকে (১৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পর ম্যাচের সেরা ডেলিভারিটি করেন রানা। ১৪৭ কিলোমিটার গতিতে করা সেই বলটি অফস্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢুকে মোহাম্মদ রিজওয়ানের মিডল ও লেগ স্টাম্প উপড়ে ফেলে। রিজওয়ান তখন কেবল বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন।
এর আগে নাজমুল হোসেন শান্তর সাহসী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে। শান্ত অল্পের জন্য দ্বিতীয় সেঞ্চুরি না পেলেও তার ৮৭ রান এবং মুমিনুল হকের নিয়ন্ত্রিত ৫৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে সাহায্য করে। শান্তর ইনিংসটিই শেষ পর্যন্ত জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে যখন শেষ উইকেট হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফেরানোর দায়িত্ব নেন রানা। তার একটি ভয়ংকর বাউন্সার আফ্রিদির গ্লাভস ছুঁয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ হিসেবে জমা পড়লে শুরু হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপন।
নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজের ১৪তম পাঁচ উইকেট এবং তাসকিন আহমেদের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট প্রাপ্তি বাংলাদেশের এই দাপুটে জয়ে বড় অবদান রেখেছে। এই জয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল বাংলাদেশ।