Bangladesh Cricket

তাইজুলের ঘূর্ণিতে ইতিহাস, পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

সিলেট টেস্টের শেষ সকালে তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার।

তাইজুলের ঘূর্ণিতে ইতিহাস, পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের
Nahid Rana emerged as a match winner in this series against Pakistan. He scalped important wickets to make sure a historic win for the Tigers.

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ দিনে তাইজুল ইসলামের জাদুকরী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। এই জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চতুর্থ টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা।

৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যের পিছে ছুটতে থাকা পাকিস্তান পঞ্চম দিন শুরু করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। জিততে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান, ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। মাঠ ভেজা থাকায় দিনের শুরু কিছুটা বিলম্বিত হলেও, রিজওয়ান ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা টাইগার বোলারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিলেন।

তবে দলের বিপদে ত্রাতা হয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) দারুণ এক ডেলিভারিতে বোকা বানিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুলের ক্যারিয়ারের ১৮তম পাঁচ উইকেট। এরপর শরিফুল ইসলাম ফেরান দারুণ ব্যাট করতে থাকা রিজওয়ানকে (৯৪)। গালিতে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাইজুলই খুররম শাহজাদকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ৩৫৮ রানে গুটিয়ে দেন।

পুরো সিরিজেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের লড়াকু ১২৬ রানের সুবাদে ২৭৮ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে পাকিস্তান থামে ২৩২ রানে, বাংলাদেশ পায় ৪৬ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রানের অবিশ্বাস্য শতকে ৩৯০ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় শান্তর দল। মুশফিকের এটি ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।

চতুর্থ ইনিংসে রিজওয়ান এবং সালমান আগার (৭১) ১৩৪ রানের জুটি কিছুটা শঙ্কা জাগালেও তাইজুলের ঘূর্ণি জাদুতে শেষ হাসি হাসে বাংলাদেশই। বাবর আজম (৪৭) ও শান মাসুদকে (৭১) আগেভাগে সাজঘরে ফেরানো তাইজুল শেষ সকালে বাকি কাজটুকু সারেন দারুণ দক্ষতায়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতায় ঘরের মাঠেও এই জয় এশীয় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন শক্তির জানান দিচ্ছে। শান্তর দলের এই জয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেল।