তানজিদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিল বাংলাদেশ
ব্যক্তিগত ৬২ রানে স্টিভেন স্মিথের হাত ফসকে জীবন পাওয়ার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তানজিদ হাসান।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুক্রবার নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তানজিদ হাসান। তার এই নান্দনিক সেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
বাঁহাতি এই ওপেনার নাথান লায়নকে লং-অফে ঠেলে দিয়ে ১ রানের মাধ্যমে ১৮৮ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। তবে এর পরপরই আউট হয়ে যান ১৯৭ বলে ১০১ রান করে, যেখানে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা।
এর আগে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৯৬ রান, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৯ রানের চেয়ে যা ছিল ১০২ রানে পিছিয়ে। শুক্রবার অপরাজিত ৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করা তানজিদ দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে গড়েন ১০২ রানের জুটি। মুমিনুল শেষ পর্যন্ত ৪৯ রান করে ফিরে গেলেও ভাঙে তাদের দারুণ এই জুটি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড অবশ্য ভাঙতে পারেনি এই জুটি। ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের ১০৮ রানের রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ থাকল আরও কিছুদিন।
নিজের ফিফটি পূর্ণ করতে ১০২ বল নেওয়া তানজিদ পরের ৫০ রান তুলে নেন মাত্র ৮৬ বলে। বিশেষ করে অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারকে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে চোখের পলকে মাঠের ওপর দিয়ে মারা এক দুর্দান্ত ছক্কা।
অবশ্য ৬২ রানের মাথায় একবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। স্লিকে দাঁড়িয়ে থাকা স্টিভেন স্মিথ সহজ একটি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন।
ডারউইনের পিচকে প্রথম দিন শেষে ‘কঠিন’ আখ্যা দিয়েছিলেন স্মিথ। তবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা সেই পিচেই সাবলীল ব্যাটিং করে রান তুলেছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও তুলে নিয়েছেন দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি।
তানজিদ আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৩০ রান, যা অস্ট্রেলিয়াকে ৩১ রানে পিছিয়ে দেয়। ক্রিজে শান্তর সঙ্গী হিসেবে তখন ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম; লক্ষ্য ছিল প্রথম ইনিংসে লিডটা যতটা সম্ভব বড় করা।
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তানজিদ। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের তিন মাসের মধ্যেই এল এই সাফল্য। এর আগে ৪০টি ওয়ানডে ও ৫৩টি টি-টোয়েন্টি খেলা এই ব্যাটার ওয়ানডে ফরম্যাটে একটি সেঞ্চুরি ও টি-টোয়েন্টিতে ১৩টি ফিফটির মালিক।
তবে বিশ্বমানের অজি বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাদেরই আঙিনায় প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি নিশ্চিতভাবেই তানজিদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে থাকবে।