Bangladesh Cricket

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ওয়ার্মআপ ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ
The victory gave Bangladesh a 1-0 lead in the two-match series and capped a remarkable turnaround after they were bowled out for 54 by a Cricket Australia XI in their warm-up match last week.

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক জয় তুলে নিল টাইগাররা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। সেই লক্ষ্য স্পর্শ করতে ১৪.২ ওভার খরচ করে সফরকারীরা। মুমিনুল হক ২৬ ও সাদমান ইসলাম ২৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

দুই ম্যাচের সিরিজে এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ওয়ার্মআপ ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর এমন ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল সত্যিই দারুণ।

গত ২৩ টেস্টের ১৮টিতে জয় পাওয়া অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিন থেকেই আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে হাসান মাহমুদের তোপে তারা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় মাত্র ১৯৮ রানে। হাসান একাই নেন ৬ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে, পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড। তানজিদ হাসান ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন, এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ রান করেন।

তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, অপরাজিত ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন (৪৩)। চতুর্থ দিনেও সেই লড়াই চালিয়ে গিয়ে নিজের ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন গ্রিন, যা অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই থামে অজিদের। লাঞ্চের আগে তিন উইকেট নেওয়া মিরাজ মধ্যাহ্নভোজের পর গ্রিনকে ১০৫ রানে সাজঘরে ফেরান। এরপর নাথান লায়নকেও বিদায় করে টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ৫ উইকেট শিকারের মাইলফলক গড়েন তিনি।

৩৩.১ ওভার বল করে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৩টি। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন হাসান মাহমুদ।

গ্রিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ১৯২ বল মোকাবিলায় ৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। তার সেঞ্চুরিটি কিছুটা আশা দেখালেও শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার শেষ চার উইকেট মাত্র ১২৩ রান যোগ করায় বাংলাদেশের জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়।

চার দিনজুড়ে দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। পেসাররা যেমন দুই ইনিংসেই অজিদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়েছেন, তেমনি ব্যাটাররা বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন। আর পিচ থেকে সহায়তা মিলতেই স্পিন জাদুতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন মিরাজ।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের তুলনায় এই জয়টি অত্যন্ত চমকপ্রদ। এই ম্যাচের আগে এশিয়ার বাইরে খেলা আগের ২৬ টেস্টের ২২টিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো শাসন করে ইতিহাস গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইতে। এই জয়ে অন্তত সিরিজ না হারার নিশ্চয়তাও পেল টাইগাররা।