Bangladesh Cricket

স্টার্কের তোপে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটি যে দারুণ ছিল, তা শুরু থেকেই প্রমাণ করেছেন মিচেল স্টার্ক। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়েছে মাত্র ৬৪ রানে।

স্টার্কের তোপে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
The visitors were in trouble from the first delivery after Australia chose to field. Shadman Islam edged Starc to gully, and within seven overs Bangladesh had lost five wickets for 12 runs.

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

ম্যাকেতে আজ শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। মিচেল স্টার্কের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। স্টার্ক একাই নিয়েছেন ১২ রানে ৬ উইকেট।

টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটি যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রথম বল থেকেই প্রমাণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্টার্কের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ইসলাম। এরপর মাত্র সাত ওভারের মধ্যে ১২ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

শীর্ষ ছয় ব্যাটারের মধ্যে চারজনই রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছেন। তানজিদ হাসান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি, এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। মুমিনুল হক ৯ রান করে স্টার্কের বলে গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন। লিটন দাসকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক, তবে শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও অস্ট্রেলিয়ার সফল রিভিউতে ফিরতে হয় তাকে।

সপ্তম ওভারের মধ্যেই স্টার্ক পাঁচ উইকেট শিকার পূর্ণ করেন। পরে শরিফুল ইসলামকে ১৪ রানে কিপারের ক্যাচ বানিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই বাঁহাতি পেসার।

মুশফিকুর রহিম ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হন। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ১১ রান, আর হাসান মাহমুদ ১০ রান করে দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন।

তবে ইনিংসের শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের প্রতিরোধের কারণেই স্কোরটা অর্ধশতক পার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দশম উইকেটে তাদের ২৫ রানের জুটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ। ৩৪ ওভার শেষে তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কামিন্স ২৫ রানে ৩ উইকেট ও জশ হ্যাজলউড ১ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের মোট সংগ্রহের বড় অংশই এসেছে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের কাছ থেকে, শেষ চার ব্যাটার মিলে করেছেন ৩৬ রান।

অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা উইকেটে সুইং ও অসম বাউন্স পেয়েছিলেন। হ্যাজলউড জানিয়েছেন, সমুদ্রের বাতাসও বল সুইং করাতে সহায়তা করেছে। তবে ইনিংস যত এগিয়েছে, উইকেট ততটাই ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে এসেছে বলে মনে হয়েছে।

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৯ উইকেটে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এই টেস্টে বাংলাদেশের এমন বিপর্যয়ের পর সিরিজ সমতায় ফেরার পথে এখন অজিরাই চালকের আসনে রয়েছে।