প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনন্য উচ্চতায় হার্মার, স্পর্শ করলেন ১০০০ উইকেটের মাইলফলক
আধুনিক ক্রিকেটে বিরল এক কীর্তি গড়লেন সাইমন হার্মার। চতুর্থ দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন এই অফ-স্পিনার।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
ক্রিকেট ইতিহাসে বৃহস্পতিবার এক অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অফ-স্পিনার সাইমন হার্মার। চতুর্থ দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানের নোমান আলীকে আউট করে হার্মার তার ক্যারিয়ারের ৫২তম টেস্ট উইকেটটি তুলে নেন। সংখ্যাটি বড় মনে না হলেও, এই উইকেটটিই তাকে পৌঁছে দিয়েছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেটের অবিশ্বাস্য ঠিকানায়। বর্তমান প্রজন্মের খুব কম বোলারই এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পেরেছেন।
৩৬ বছর বয়সী হার্মার এখন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি চার্লি লুইলিন (১০১৩), অ্যালান ডোনাল্ড (১২১৬) এবং মাইক প্রোকটারের (১৪১৭) পাশে নিজের নাম লেখালেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচি আর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চাকচিক্যের এই যুগে হার্মারের এই কীর্তি তার ধৈর্য ও ধারাবাহিকতারই বড় প্রমাণ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেট এখন বিরল এক অর্জন। ইতিহাসের পাতায় মাত্র ২১৭ জন বোলার এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই তালিকায় নাম লেখানো বোলারদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন শেষবার এই কীর্তি গড়েছিলেন। তার আগে ২০০৭ সালের পর এই ক্লাবে ঢোকার সৌভাগ্য হয়েছিল কেবল দানিশ কানেরিয়া এবং রঙ্গনা হেরাথের মতো হাতেগোনা কয়েকজনের।
বর্তমানে খেলছেন এমন বোলারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মালিন্দা পুস্পকুমারা ৯৮০ উইকেট নিয়ে এই মাইলফলকের খুব কাছে আছেন। এরপর তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন (৮৪৭) ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস (৭৫০), যারা এখনো এই ল্যান্ডমার্ক থেকে অনেকটা দূরে।
সমসাময়িক অনেক ক্রিকেটারের তুলনায় হার্মারের ক্যারিয়ারটা একটু আলাদা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি টেস্ট খেললেও, তিনি তার ক্যারিয়ারের বড় সময় ব্যয় করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে। বিশেষ করে এসেক্সের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের মোহে না ঝুঁকে লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি তার এই একাগ্রতাই আজ তাকে এই বিরল অর্জনের পথে নিয়ে এসেছে।
হার্মারের এই ১০০০ উইকেটের অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে বিশেষজ্ঞ বোলারদের বিলুপ্তপ্রায় ধারার প্রতীক। আধুনিক ক্রিকেটে যখন টি-টোয়েন্টি বা শর্টার ফরম্যাটের জয়জয়কার, তখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন পরিসংখ্যান গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। তবে হার্মার রাওয়ালপিন্ডিতে প্রমাণ করে দিলেন যে, ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর অধ্যবসায় থাকলে এখনো ক্রিকেটে এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করা সম্ভব।