Bangladesh Cricket

ওয়ানডে সিরিজ জয়: স্বস্তির মাঝেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় প্রশ্নচিহ্ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় এলেও মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ব্যাটারদের ক্লান্তিকর পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ফিটনেস নিয়ে উঠেছে গভীর প্রশ্ন।

ওয়ানডে সিরিজ জয়: স্বস্তির মাঝেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় প্রশ্নচিহ্ন
Bangladesh beat West Indies by a big margin

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষা শেষে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে এই জয়ে আনন্দ থাকলেও দলের ওয়ানডে সেটআপের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না। সিরিজের চিত্র ছিল স্পিন-নির্ভর এবং ব্যাটারদের লড়াইয়ের। এই সিরিজ সমাধান যেমন দিয়েছে, তেমনি নতুন করে অনেক সমস্যার জটও পাকিয়েছে।

আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সিরিজ হারের পর এই জয় স্বস্তি এনেছে ঠিকই, কিন্তু এটি এসেছে চেনা স্লো পিচ আর স্পিন সহায়ক কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে। তিন ম্যাচে স্পিনাররা নিয়েছেন রেকর্ড ৪৪টি উইকেট, যা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এমনকি দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টানা ৫০ ওভার স্পিন বোলিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ঘরের মাঠের কন্ডিশনের ওপর কতটা নির্ভরশীল। মিরপুরের উইকেটে বোলাররা দাপট দেখালেও, রিশাদ হোসেনের ১২ উইকেট আগামীর জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহলে এই জয়ের চেয়েও বড় আলোচনা হচ্ছে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি, সূচির অব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব নিয়ে।

বিসিবির সংশ্লিষ্টরাই স্বীকার করছেন যে, গত কয়েক মাস ওয়ানডে দল খুব একটা মনোযোগ পায়নি। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর প্রায় ছয় মাস কোনো ৫০ ওভারের সিরিজ ছিল না দলের। এরপর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে ছিল তিন মাসের বিরতি। এছাড়া বৃষ্টির কারণে এইচপি ও বাংলাদেশ টাইগার্সের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় খেলোয়াড়রা পুরোপুরি প্রস্তুতির সুযোগ পাননি।

ব্যস্ত সূচি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। এশিয়া কাপের পর সরাসরি আফগানিস্তান সিরিজ, আর দেশে ফেরার মাত্র তিন দিন পরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক বিসিবি কর্মকর্তা এই সূচিকে 'অমানবিক' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগই ছিল না।

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞদের বিদায়ের পর মিডল অর্ডারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাদের জায়গায় আসা নতুনরা ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। দুই দশকের স্থিতিশীল মিডল অর্ডার পুনর্গঠন যে সময়সাপেক্ষ, তা বোর্ড সংশ্লিষ্টরাও মানছেন।

এখন বাংলাদেশের নজর ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে। ১৫ সদস্যের দলে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন লিটন দাস। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দল ছোট করে আনা হয়েছে, যেখানে জায়গা পাননি সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ওয়ানডেতে হারের বৃত্ত ভাঙলেও দলের ভেতরে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। ঘরের মাঠে স্পিননির্ভর উইকেটে এই জয় বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ কেমন করবে, সেই সংশয় দূর করতে পারেনি। একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে দাপট দেখানো বাংলাদেশ এখন জয়ের ধারায় ফিরলেও, বড় সাফল্য পেতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।