শচিনের অনুপ্রেরণায় শফালির ব্যাটে ইতিহাস গড়ার গল্প
কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের সেই গুরুমন্ত্রই যেন পাল্টে দিয়েছিল শফালি ভার্মাকে। নবি মুম্বাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারতের প্রথম নারী বিশ্বকাপ জয়ের দিনে শফালির ৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংসটি ছিল ঠিক যেন রূপকথার মতো।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
নবি মুম্বাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে শফালি ভার্মার ব্যাট যেন ছিল আগ্নেয়গিরি। তার ৮৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসটিতে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। তবে এই ঝোড়ো ইনিংসের পেছনে লুকিয়ে ছিল ছোট এক গল্প—তার স্বপ্নের নায়ক শচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ। ক্রিকেট খেলতে শফালি যে মানুষটিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, সেই শচিনই এদিন তাকে দিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাসের রসদ।
প্রতিকা রাওয়াল চোটে পড়ায় বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ভারতের স্কোয়াডে ডাক পান শফালি। সুযোগটা পেয়েই দুই হাত ভরে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফাইনালে ৬৩ বলে ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে এনে দিয়েছেন প্রথমবার আইসিসি নারী বিশ্বকাপের শিরোপা। ভারত ম্যাচটি জিতেছে ৫২ রানে।
ম্যাচ শেষে শফালি বলেন, 'শচিন স্যারকে দেখে আমি অবিশ্বাস্য এক আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম। তার সাথে কথা হচ্ছিল, তিনি আমাকে ক্রমাগত সাহস দিচ্ছিলেন। তিনি ক্রিকেটের ঈশ্বর, তাকে দেখলেই আমরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।'
২১ বছর বয়সী এই ব্যাটারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা বেশ নাটকীয়। গত বছর ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালেও করেছিলেন মাত্র ১০ রান। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দিনে শফালি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতটা পরিণত। বল হাতেও নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট, জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর জানালেন, শফালিকে দিয়ে বোলিং করানোর সিদ্ধান্তটা ছিল তার সহজাত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, 'এটি ছিল একটি গাট ফিলিং (সহজাত বুদ্ধি)। শফালির কথা শুনে মনে হয়েছিল সে প্রস্তুত। আমি কোনো আফসোস রাখতে চাইনি। যখন সে পরপর দুটি উইকেট নিল, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে গিয়েছিল।'
নিজের সাফল্যের জন্য সতীর্থদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শফালি বলেন, 'নিজের ওপর আস্থা ছিল। আমি জানতাম শান্ত থাকতে পারলে সবকিছু সম্ভব। সিনিয়ররা আমাকে বলেছিল নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে, আর সেই পরিষ্কার ধারণাটাই আমাকে সাহায্য করেছে।'
ভারতের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক শিরোপার আনন্দ। আর শফালির জন্য এটি সেই মুহূর্ত, যার প্রতিশ্রুতি তিনি দীর্ঘদিন দিয়ে আসছিলেন। শট খেলার ধরনে যার সঙ্গে প্রায়ই শচিন টেন্ডুলকারের তুলনা করা হয়, সেই শফালি এদিন আইকনের আস্থার প্রতিদান দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই।