২০২৯ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০ দল, ২০৩২ অলিম্পিকেও ক্রিকেটের স্বপ্ন দেখছে আইসিসি
বিশ্বব্যাপী নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও প্রসার বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে আইসিসি। ২০২৯ সাল থেকে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়িয়ে দশটি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩২ অলিম্পিকেও ক্রিকেটকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
নারী ক্রিকেটের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা ও প্রসারের ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ২০২৯ সাল থেকে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০টি দল অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ।
২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের অভাবনীয় সাফল্যের পর এই সিদ্ধান্ত এল। সেই আসরে স্টেডিয়ামে প্রায় ৩ লাখ দর্শকের উপস্থিতি ছিল, যা নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে রেকর্ড। এছাড়া ভারতের শিরোপা জেতার সেই আসরটি বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটির বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন।
২০০০ সাল থেকে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আটটি দল খেলে আসছিল। ২০২৯ আসরে দল বেড়ে ১০টি হওয়ায় মোট ম্যাচের সংখ্যাও ৩১ থেকে বেড়ে ৪৮-এ উন্নীত হবে। আইসিসি জানিয়েছে, নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। শুধু ওয়ানডে নয়, ২০২৬ সাল থেকে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ করা হচ্ছে।
এদিকে আইসিসি তাদের নারী ক্রিকেট কমিটিতে নতুন সদস্য হিসেবে ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজ, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলি ডি সিলভা এবং ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি শার্লট এডওয়ার্ডসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে, ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের ফেরার বিষয়টি নিয়েও রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। সেখানে পুরুষ ও নারী উভয় ইভেন্টেই ছয়টি করে দল অংশ নেবে। আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও ওশেনিয়া—এই পাঁচ অঞ্চলের শীর্ষ দলগুলোর পাশাপাশি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খেলবে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নবনির্মিত ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে ১২ জুলাই শুরু হবে এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞ।
শুধু অলিম্পিক নয়, ২০২৬ জাপানে এশিয়ান গেমস, ২০২৭ মিশরে আফ্রিকান গেমস এবং ২০২৭ পেরুতে প্যান-আম গেমসেও ক্রিকেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আলোচনা চলছে। আইসিসি সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জানান, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর উপস্থিতিতে ব্রিসবেন আয়োজক কমিটি এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে এ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া গ্লোবাল মোবাইল গেমিং স্বত্ব নিয়েও নতুন প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। খেলোয়াড়দের নাম, ছবি ও ইমেজ রাইট (এনআইএল) সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে নতুনভাবে আইসিসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্রিকেট গেম তৈরির লক্ষ্যে বিশ্বের নামী গেম স্টুডিওগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার পথ প্রশস্ত হয়েছে।