Bangladesh Cricket

সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ভরাডুবি: টেস্ট ক্রিকেটের গভীরতা নিয়ে নতুন শঙ্কা

সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্স জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা নির্বাচকদের চিন্তায় ফেলেছে আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে।

সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ভরাডুবি: টেস্ট ক্রিকেটের গভীরতা নিয়ে নতুন শঙ্কা
Match imagery | Photo: Daily Star / © Daily Star Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

প্রিটোরিয়া, সাউথ আফ্রিকা—সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে চার দিনের ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এই লজ্জাজনক পরাজয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের গভীরতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকার মাটিতে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে জাতীয় দলের দরজা খোলার লড়াইয়ে থাকা ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্স নির্বাচকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। দলে মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান ও শাহাদাত হোসেন দিপুর মতো জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ থাকা সত্ত্বেও এমন পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলছেন, তারা ‘অ্যালার্মড’ নন।

ব্যাট হাতে পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল ব্যর্থতার মিছিল। প্রথম ইনিংসে ১২২ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১১২ রানে। দলের ব্যাটিং দৈন্যদশা কতটা ভয়াবহ ছিল, তা বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যানে—উভয় ইনিংস মিলিয়ে কোনো ব্যাটারই ৬০ বল মোকাবেলা করতে পারেননি! সর্বোচ্চ ৩০ রান করতে মোহাম্মদ নাঈম বল খেলেছেন ৫৬টি। উল্টোদিকে সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দল মার্কাস অ্যাকারম্যান ও সিনেথেম্বা কেশিলের ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ৬ উইকেটে ৬৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের বোলিং বিভাগও ছিল দিশেহারা; স্পিনার নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদ যথাক্রমে ১৫২ ও ২১৫ রান খরচ করেন, যার মধ্যে নাঈম পান মাত্র এক উইকেট।

দলের এমন বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রধান নির্বাচক বাশার বলেন, 'আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। দলে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় ছিলেন, কিন্তু তারা নিজেদের যোগ্যতার সুবিচার করতে পারেননি।' বোলিং বিভাগকে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করলেও, জয়ের মতো তরুণদের অভিজ্ঞতার অর্জনের জন্য এই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন তিনি। ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ হতাশা প্রকাশ করে জানান, দলে ছয়জন জাতীয় দলের ক্রিকেটার থাকার পরও কোনো সেঞ্চুরি বা জোড়া হাফ সেঞ্চুরি না হওয়াটা খুবই হতাশাজনক। অপরিচিত কন্ডিশন ও প্রস্তুতির অভাবকে কিছুটা দায়ী করলেও, এই বিশাল হার জাতীয় দলের টপ অর্ডার নিয়ে নির্বাচকদের ভাবনায় নতুন খোরাক জোগাল। শাদমান ইসলামের সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা ও এই সিরিজের পারফরম্যান্স মিলিয়ে টেস্ট সিরিজের দল নির্বাচনের আগে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে টিম ম্যানেজমেন্ট।