Pakistan

লর্ডসে রাজনৈতিক উত্তাপ: ইমরান খানের সন্তানদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পিসিবি ও স্কাই স্পোর্টসের দ্বন্দ্ব

লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ইমরান খানের সন্তানদের সাক্ষাৎকার প্রচার নিয়ে নজিরবিহীন কূটনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। স্কাই স্পোর্টসের এই সাক্ষাৎকার নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে এবং বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। মাঠের বাইরে এমন উত্তেজনার মধ্যেই ইংল্যান্ড ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান সংগ্রহ করেছে।

লর্ডসে রাজনৈতিক উত্তাপ: ইমরান খানের সন্তানদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পিসিবি ও স্কাই স্পোর্টসের দ্বন্দ্ব
Match imagery | Photo: Fox Sports Australia / © Fox Sports Australia Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই দেখা গেল নজিরবিহীন কূটনৈতিক অস্থিরতা। মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের একটি সাক্ষাৎকার। এই সাক্ষাৎকার প্রচারের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এমনকি খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত ১৮ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান তাদের বাবার স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কারাগারে বন্দিদশা নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন। খবর অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের আগেই পিসিবি কর্তৃপক্ষ সম্প্রচারকারী সংস্থাকে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, এটি সম্প্রচার করা হলে তারা বয়কটের পথে হাঁটবে। তবে সেই হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করেই স্কাই স্পোর্টস সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানালেও, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দল দ্বিতীয় সেশনে মাঠে নামলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

লর্ডসে একদিন আগে ধারণ করা ওই সাক্ষাৎকারে খানের ছেলেরা দাবি করেন, তাদের বাবাকে কারাগারে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তারা ইমরান খানের একাকী কারাবাস, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং অস্বাস্থ্যকর সেলের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি একনায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার ফলে ক্রিকেটাররা মুখ খুলতে ভয় পান।

রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মাঝে মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল পাকিস্তান। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাবর আজম। মোহাম্মদ আব্বাসের তোপে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে—বেন ডাকেট (১৭), এমিলিও গে (৮) এবং জো রুট (৪) দ্রুত ফিরে গেলে লাঞ্চের আগেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

তবে সেখান থেকে জ্যামি স্মিথ (৮০ বলে ৬১ রান) এবং জর্ডান কক্সের (১০৫ বলে ৫৫ রান) লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। শেষদিকে গাস অ্যাটকিনসনের অপরাজিত ৩৮ রানের সুবাদে ইংল্যান্ড ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দিনের শেষভাগে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা আগেভাগেই বন্ধ করতে হয়। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাসের পাশাপাশি মোহাম্মদ আলীও তিনটি উইকেট শিকার করেছেন।

এই ঘটনা নিয়ে স্কাই স্পোর্টস বা পিসিবি কেউই তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। এমনকি ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেও বোলার মোহাম্মদ আব্বাসকে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করতে দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সম্প্রচারকারী পিটিভি ওই সাক্ষাৎকারটি এড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টির স্পর্শকাতরতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

হেডিংলি টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু করা পাকিস্তানের জন্য এই রাজনৈতিক উত্তাপ মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে ক্রিকেটীয় উত্তেজনার চেয়ে মাঠের বাইরের এই বিতর্কই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।