দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিজ্ঞদের নৈপুণ্যে চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া
ডারবান টেস্টের তৃতীয় দিনে স্টিভেন স্মিথ ও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চালকের আসনে দল।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল নিয়ে ক্রিকেট মহলে দীর্ঘ দিন ধরেই নানা আলোচনা চলে আসছে, বিশেষ করে দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের বয়স নিয়ে। তবে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে চেনা ছন্দে ফিরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে দর্শনীয় এই দলটি।
দীর্ঘ ৯ বছর আগে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করা পেস ত্রয়ী মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স এবং স্পিনার নাথান লায়ন মিলে আবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে দেয় ২৮৪ রানে। অধিনায়ক কামিন্স নেন তিনটি উইকেট, আর স্টার্ক, হ্যাজলউড ও লায়নের ঝুলিতে যায় দুটি করে উইকেট।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ৩৯০ রানের জবাবে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহামের দ্বিতীয় উইকেটের জুটি বেশ সাবলীলভাবেই ওভারপ্রতি সাড়ে চার রানের কাছাকাছি রান তুলে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ ওভারের পরপরই অধিনায়ক কামিন্স তার পুরোনো এবং পরীক্ষিত কৌশলে ফিরে যান। এক প্রান্ত থেকে লায়নকে বল দেওয়ার পাশাপাশি অন্য প্রান্তে পেসারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করেন অজিরা। বোলারদের লেন্থ কিছুটা টেনে ধরায় ব্যাটারদের জন্য রান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে মার্করাম যথাক্রমে ৩৭ ও বেডিংহাম ৪৯ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
এরপর কামিন্সের একটি শর্ট বলে বিভ্রান্ত হয়ে সাজঘরে ফেরেন উইয়ান মুল্ডার, আর ট্রিস্টান স্টাবস অধিনায়ক কামিন্সের বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। ইনিংসের এক পর্যায়ে দ্রুত ২৬ রান করা মার্কো ইয়ানসেনও হ্যাজলউডের বলে পুল করতে গিয়ে মিড-অফে সহজ ক্যাচ দেন।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাথান লায়ন ১৯ ওভার বল করে ওভারপ্রতি তিন রানেরও কম খরচ করে এক প্রান্ত আঁকড়ে রাখেন। পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যাটারদের দারুণ চাপে রাখেন, যার ফায়দা নেন স্লিপে থাকা স্টিভেন স্মিথ।
টেম্বা বাভুমা ও কাইল ভেরেইনাকে রিভার্স সুইপ করার সময় দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন স্মিথ। এছাড়া কামিন্সের বলে বেডিংহামের ক্যাচ নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে উইকেটকিপার ছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার তালিকায় জো রুটকে ছাড়িয়ে নিজের ক্যাচসংখ্যা ২২৩টিতে উন্নীত করেন এই অভিজ্ঞ ফিল্ডার।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৩৩ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে তারা বর্তমানে ১৩৯ রানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের শেষ দুই দিনে জয়ের সুবাস পাচ্ছে।