Australia

১১৩ রান হজম করার পর শেন ওয়ার্নের সাথে বিয়ারে চুমুক: মিক লুইসের দুঃস্বপ্নের রাত

২০০৬ সালের ঐতিহাসিক সেই ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১১৩ রান দিয়ে রেকর্ড গড়া অজি পেসার মিক লুইস শেন ওয়ার্নের সাথে বসে কাটিয়েছিলেন দুঃস্বপ্নের রাত।

১১৩ রান হজম করার পর শেন ওয়ার্নের সাথে বিয়ারে চুমুক: মিক লুইসের দুঃস্বপ্নের রাত
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে বোলিং করার সময় মিক লুইস। ছবি: এএফপি

পেশাদার খেলায় অনেক সময় মানসিক যন্ত্রণা হিসাব করা হয় মুহূর্তের ব্যবধানে, তবে অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিক লুইসের জন্য সেই দুঃস্বপ্ন দীর্ঘায়িত হয়েছিল টানা দশ ওভার জুড়ে। জোহানসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৬ সালের সেই অবিশ্বাস্য ওয়ানডে মহাযুদ্ধে বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। কোনো উইকেট না পেয়ে ১শ ১৩ রান খরচ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দেন তিনি।

ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে পাহাড়সমান ৪৩৪ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করেছিল প্রোটিয়ারা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ম্যাচ হিসেবে ওই লড়াই স্বীকৃতি পেলেও, অজি বোলারদের জন্য এর পরিণতি ছিল ভীষণ নিষ্ঠুর। লুইসের ক্যারিয়ারের জন্য ম্যাচটি কেবল একটি খারাপ দিনই ছিল না, বরং জাতীয় দলের জার্সিতে সেটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ।

এমন নজিরবিহীন খরুচে পারফরম্যান্সের পর যেকোনো খেলোয়াড়ের মনোবল ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। ড্রেসিংরুমের চার দেওয়ালের মাঝে তৈরি হওয়া সেই চাপা অস্বস্তি দূর করতে এগিয়ে এসেছিলেন খোদ লিজেন্ডারি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নি। গণমাধ্যমের কড়া নজরদারি এড়িয়ে বিধ্বস্ত পেসারকে পাশে ডেকে নিয়ে ঠান্ডা পানীয়ের টেবিলে বসে মনের ভার হালকা করার সুযোগ করে দেন তিনি।

স্নায়ুর চাপ সামলে কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানতেন ওয়ার্ন। তরতাজা অভিজ্ঞতার সেই আড্ডায় জুনিয়র সতীর্থকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে একটিমাত্র বাজে ম্যাচ পুরো ক্যারিয়ারের মাপকাঠি হতে পারে না। এই বন্ধুসুলভ উদ্যোগের ফলে বড় কোনো মানসিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন সেই দুর্ভাগা পেসার।

সময়ের পরিক্রমায় ক্রিকেট বিশ্লেষকরা আজও সেই ম্যাচের রানপাহাড় ও বোলিং কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা করেন। তবে স্কোরবোর্ডের রোমাঞ্চ ছাড়িয়ে মাঠের বাইরের এই মানবিক গল্পগুলোই অনেক সময় খেলার আসল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। চরম বিপদের দিনে সতীর্থের পাশে দাঁড়ানোর এমন নজির প্রমাণ করে, ড্রেসিংরুমের ভেতরের বন্ধন কতটা গভীর হতে পারে।