India

জোড়া ৯৯ ও ৩৫৮ রানের ইনিংস, তবু ১২ ওডিআইতেই থামে যে ভারতীয় তারকার ক্যারিয়ার

১৯৯৯ বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়ে অভিষেকেই ৫৭ রান করেছিলেন এই ভারতীয় বাঁহাতি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ৩৫৮ রানের ইনিংস থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে যায় মাত্র ১২ ওডিআইতেই।

জোড়া ৯৯ ও ৩৫৮ রানের ইনিংস, তবু ১২ ওডিআইতেই থামে যে ভারতীয় তারকার ক্যারিয়ার
আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাটিং ড্রাইভে ভারতীয় এক বাঁহাতি ব্যাটার। ছবি: এএফপি

ভারতীয় ক্রিকেটে এমন বহু গল্প লুকিয়ে রয়েছে, যা একসময় দারুণ সম্ভাবনার জানান দিয়েও জাতীয় দলের রঙিন পোশাকে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। তেমনই এক আক্রমণাত্মক বাঁহাতি ব্যাটারের গল্প, যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাত্র ১২টি ওডিআই খেলে থমকে যান।

১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগেই। এরপর পুনেতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিজের অভিষেক ওডিআইতেই ৪৫ বলে ৫৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন এই স্ট্রোকমেকার।

সেই সময় শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলীর পাশাপাশি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে একজন আক্রমণাত্মক বাঁহাতি ব্যাটারের অভাব পূরণ করতে তাকে দলে আনা হয়েছিল। এমনকি চোট কিংবা বিশ্রামের কারণে শচীন যখন ম্যাচের বাইরে থাকতেন, তখন তার জায়গায় একাদশে সুযোগ দেওয়া হতো এই ব্যাটারকে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান ছিল চোখধাঁধানো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৫৮ রানের একটি ট্রিপল সেঞ্চুরির পাশাপাশি একই ম্যাচের দুই ইনিংসে ৯৯ রান করে আউট হওয়ার বিরল রেকর্ডও ছিল তার ঝুলিতে।

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই অতিমানবী পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আন্তর্জাতিক বোলাররা দ্রুতই তার খেলার ধরন পর্যবেক্ষণ করে দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাতে শুরু করেন, যার ফলে জাতীয় দলে নিজের অবস্থান স্থায়ী করতে তিনি ব্যর্থ হন।

১৯৯০-এর দশকের শেষ এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতীয় দলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলায় ও কয়েকটি সুযোগে বড় ইনিংস খেলতে না পারায় দ্রুতই নির্বাচকদের সুনজর থেকে ছিটকে যান এই ক্রিকেটার।

ঘরোয়া ক্রিকেটের রাজত্ব আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে যে কতটা দূরত্ব থাকতে পারে, তার এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে এই বাঁহাতি তারকার সংক্ষিপ্ত কিন্তু বর্ণিল ক্যারিয়ার।