Features & Analysis

দুলীপ ট্রফিতে ৩২০ থেকে ঢাকার ট্র্যাজেডি: রমন লাম্বার না ভোলা গল্প

দুলীপ ট্রফিতে ৩২০ রানের মহাকাব্য ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩১টি সেঞ্চুরি—ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের মহীরুহ রমন লাম্বার ট্র্যাজিক পরিণতি আজও কাঁদায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

দুলীপ ট্রফিতে ৩২০ থেকে ঢাকার ট্র্যাজেডি: রমন লাম্বার না ভোলা গল্প
দুলীপ ট্রফির ফাইনালে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়া সাবেক ভারতীয় ব্যাটার রমন লাম্বা। ছবি: এএফপি

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে রানবন্যার অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন দিল্লি তারকা রমন লাম্বা। দুলীপ ট্রফির ফাইনালে তার খেলা ৩২০ রানের অবিশ্বাস্য মহাকাব্যিক ইনিংসটি আজও ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটিং নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।

শুধু সেই একটি ট্রিপল সেঞ্চুরিই নয়, গোটা ক্যারিয়ার জুড়েই রানের জন্য অদম্য ক্ষুধা ছিল এই গতিশীল ওপেনারের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দু-দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরি ও ৩১টি শতকের চোখধাঁধানো মাইলফলক স্পর্শ করে নিজেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি।

বয়সকে কেবলই একটি সংখ্যায় পরিণত করেছিলেন লাম্বা। ৩৭ বছর বয়সে এসেও ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং দক্ষতার ঝলক দেখিয়ে রঞ্জি ট্রফির এক একক মৌসুমে ১,০৩৪ রান সংগ্রহ করে তামাম ক্রিকেট মহলকে তাক লাগিয়ে দেন।

ভারতের জাতীয় দলের হয়ে ৪টি টেস্ট ও ৩২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর সুযোগ সীমিত হয়ে এলেও খেলার প্রতি ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতে শুরু করেন এবং ঢাকার ঘরোয়া লিগে আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে হয়ে ওঠেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এক মুখ।

তবে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শর্ট লেগে হেলমেট ছাড়া ফিল্ডিং করার সময় ব্যাটার মেহরাব হোসেন অপির সজোর শটে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান তিনি।

হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। তার এই আকস্মিক ও ট্র্যাজিক প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল বাংলাদেশ ও ভারতের সমগ্র ক্রিকেট অঙ্গনে।

আজ এত বছর পর নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া আঙিনায় নতুন সব রেকর্ড গড়লেও, রমন লাম্বার সেই রানক্ষুধা আর মাঠের মর্মান্তিক আত্মত্যাগ ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে আছে।