৫৬ বলের সেঞ্চুরি থেকে ধোনিকে সিএসকেতে আনা: ট্র্যাজিক হিরো চন্দ্রশেখর
৫৬ বলে শতক, আইপিএলে ধোনিকে চেন্নাইয়ে আনা এবং দ্রাবিড়কে গড়ার নায়ক ভি বি চন্দ্রশেখরের গল্পটা আনন্দের হলেও শেষটা বেশ ট্র্যাজিক।

ভারতীয় ক্রিকেটে ভি বি চন্দ্রশেখর এমন এক নাম, যার ক্রিকেটীয় প্রতিভার ব্যাপ্তি এবং করুণ পরিণতি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে হাহাকার তৈরি করে। আক্রমণাত্মক উদ্বোধনী ব্যাটার, দূরদর্শী নির্বাচক এবং সফল ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে ভারতের ক্রিকেট বিকাশে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।
ঘরের মাঠের ক্রিকেটে মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালের ইরানি ট্রফিতে 'রেস্ট অব ইন্ডিয়া'র বিরুদ্ধে মাত্র ৫৬ বলে দুর্দান্ত শতরান হাঁকিয়ে সেই সময় ভারতীয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম শতকের নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন চন্দ্রশেখর।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় ৫ হাজার রান করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর স্থায়িত্ব ছিল ভীষণ সংক্ষিপ্ত। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৭টি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এই তামিলনাড়ু ব্যাটার।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেট সংগঠক ও কোচ হিসেবে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরেন চন্দ্রশেখর। জাতীয় নির্বাচকের দায়িত্ব পালনকালে প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করার কাজে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো ছিল নিখুঁত। রাহুল দ্রাবিড়ের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার পেছনেও ছিল তাঁর বিশেষ অবদান।
তবে সংগঠক হিসেবে তাঁর সেরা মাস্টারস্ট্রোকটি আসে ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) উদ্বোধনী আসরে। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) ক্রিকেট ম্যানেজার পদে দায়িত্ব সামলানো চন্দ্রশেখর নিলামে ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দলে ভেড়ান, যা সিএসকে-কে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত করার মূল চাবিকাঠি ছিল।
মাঠ ও মাঠের বাইরে দেশের ক্রিকেটে অপরিসীম অবদান রাখলেও জীবন সায়াহ্নে তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কেন্দ্রিক বিপুল দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে ২০১৯ সালের আগস্টে চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই সাবেক ক্রিকেটার, যা স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে।