India

ভারতের ফ্ল্যাট উইকেটের সংকটে দিশেহারা তরুণ পেসাররা

ভারতের ফ্ল্যাট উইকেটে আন্তর্জাতিক অভিষেকে চরম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তরুণ পেসারদের, যা নিয়ে সমালোচনা মুখর হয়েছেন কিউরেটর ও বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের ফ্ল্যাট উইকেটের সংকটে দিশেহারা তরুণ পেসাররা
আন্তর্জাতিক অভিষেকে ৮৪ রান খরচ করা পেসার আকিভ নবী বল করছেন। ছবি: পিটিআই

घরোয়া ক্রিকেটে কঠোর পরিশ্রমের পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই অভিষেকে বড় রানের মুখে পড়া কোনো সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। ভারতের তরুণ পেসারদের এই দশা তৈরি হয়েছে এমন এক কারণে, যার ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

গত দুই বছরে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ওভারপ্রতি রান উঠেছে ৭.১১ হারে। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান সংগ্রহের হার দাঁড়িয়েছে ১০.৬৬-এ, যা বোলারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিভ নবী গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আন্তর্জাতিক অভিষেকেই এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ২০২৫-২৬ রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে ৬০ উইকেট শিকার করে নিজের দলকে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন করার পর তিনি জাতীয় দলে জায়গা পান।

আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে নিষ্প্রাণ উইকেটে তিনি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি এবং যেখানেই খেলেছেন, ব্যাটাররা তার ওপর চড়াও হয়েছেন। ওয়ানডে অভিষেকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি, যেখানে তিনি ৮.৫ ওভারে ৮৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।

সিরিজের অন্য ম্যাচেও নবাগত পেসাররা একই পরিস্থিতির শিকার হন। নতুন চণ্ডীগড়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে অংশ নেওয়া অংশুল কম্বোজ ৯ ওভারে ৮২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।

হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত নীতীশ কুমার রেড্ডি একই ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। এছাড়া আরেক পেসার গুরনূর ব্রার দ্বিতীয় ম্যাচে ৯৬ রান খরচ করে দুটি উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচের পরের দিন গণমাধ্যম ও দর্শকদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়া তরুণ বোলারদের জন্য মানসিক দিক থেকে বেশ বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর রমেশ মহামুনকর কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রমেশ মহামুনকর গণমাধ্যমকে জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম দশ ওভারে পেসারদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা থাকে এবং পরবর্তীতে স্পিনাররা সাহায্য পান। কিন্তু আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটে উইকেটের আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে।

তার মতে, বোর্ড ও সম্প্রচারকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং স্বর্গ বানিয়ে বোলারদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিসিসিআই এই সৎ সমালোচনা আমলে নিয়ে ভবিষ্যতে ভারসাম্যপূর্ণ উইকেট তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।