India

প্রথম শ্রেণিতে ৯ হাজার রান, তারপর ২২ বছরের আইনি লড়াই: জ্যাকব মার্টিনের গল্প

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯ হাজারের বেশি রান করা সাবেক ভারতীয় ব্যাটার জ্যাকব মার্টিনকে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি শিরোনামে আসতে হয়েছিল ২২ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে।

প্রথম শ্রেণিতে ৯ হাজার রান, তারপর ২২ বছরের আইনি লড়াই: জ্যাকব মার্টিনের গল্প
ঘরোয়া ম্যাচ চলাকালে সাবেক সতীর্থ অজিত আগারকরের সঙ্গে ফ্রেমবন্দী সাবেক ভারতীয় ব্যাটার জ্যাকব মার্টিন। ছবি: জিওহটস্টার

নব্বইয়ের দশকের শেষ ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক পরিচিত নাম ছিলেন জ্যাকব মার্টিন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯,১৯২ রান করা এই মিডল-অর্ডার ব্যাটার বারোদা দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সুযোগ না পাওয়ার পর অবসর জীবনটা তাঁর কেটেছে মাঠের বাইরের এক দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি লড়াইয়ে।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল মার্টিনের, যা ছিল ক্যারিবীয় তারকা ক্রিস গেইলের আন্তর্জাতিক অভিষেকেরও সমসাময়িক। রঞ্জি ট্রফিতে একটি মৌসুমে ১০৩-এর বেশি গড়ে রান তোলা কিংবা ২৪২ রানের ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, জাতীয় দলে স্থায়ী আসন তৈরি করতে পারেননি তিনি।

ভারতের হয়ে খেলেছেন মোটে ১০টি ওডিআই, যেখানে তাঁর মোট রান ১৫৮ এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৯ রান। সে সময় শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো মহাতারকাদের ভিড়ে ভারতীয় মিডল-অর্ডারে জায়গা ধরে রাখা যেকোনো ব্যাটারের জন্যই অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ ছিল।

২০০৯ সালে পেশাদার ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার পর একটি বিতর্কিত কাণ্ডে নাম জড়ায় মার্টিনের। ২০০৩ সালের একটি মানব পাচার মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে এবং ২০০৯ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে একটি ক্লাবের খেলোয়াড় সাজিয়ে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগ ও গ্রেফতারির ঘটনা সাবেক এই ক্রিকেটারকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সব অর্জন যেন এক নিমেষে ঢাকা পড়ে যায় আইনি জটিলতা ও সংবাদমাধ্যমের বিতর্কের আড়ালে।

যদিও শুরু থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন বারোদার এই ব্যাটার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনো ধরনের অসাধু চক্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি সর্বদা সততা বজায় রেখেছেন।

অবশেষে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চলা সেই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটে আদালতের রায়ে। পর্যালোচনায় উপযুক্ত তথ্যের অভাবে সব অভিযোগ থেকে মুক্ত হন তিনি, যা তাঁর জীবনের এক দীর্ঘ ও মানসিক কষ্টের অধ্যায়ের ইতি টানে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বেকসুর খালাস পেলেও, এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা মার্টিনের অবসর উত্তর জীবন ও কোচিং ক্যারিয়ারকে থমকে দিয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ব্যাটার বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছিলেন, মাঠের বাইরে জীবনের বাস্তবতায় তাঁর পথটা হয়ে উঠেছিল অনেকটাই কণ্টকাকীর্ণ।