বোথামের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি, টেস্ট ক্যারিয়ার ৩৮ বলের: শচীনের পথ তৈরি করা গুরশরনের গল্প
ইয়ান বোথাম ও বব উইলিসের সামলে ১০১ রান করলেও আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ার স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৩৮ বল। তবে গুরশরন সিংয়ের আঙুলের চোটই ১৯৮৯ সালে তৈরি করেছিল শচীন টেন্ডুলকারের অভিষেকের পথ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কিছু গল্প থাকে যা আক্ষরিক অর্থেই রূপকথার চেয়েও অদ্ভুত। ভারতের সাবেক ব্যাটার গুরশরন সিংয়ের ক্যারিয়ার ঠিক তেমনই এক অধ্যায়। ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথাম ও বব উইলিসের তোপ সামলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও, লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৩৮ বলের।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘদিন নিয়মিত রান করার পর জাতীয় দলের আঙিনায় সুযোগ পেয়েছিলেন পাঞ্জাবের এই দৃঢ়চেতা ব্যাটার। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তার জন্য জমা ছিল অন্য এক চিত্রনাট্য। ১৯৮৯ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সিরিজের ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় গুরশরন সিংকে। একাদশে তার সুযোগ পাওয়াটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল।
ঠিক তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। সিরিজের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় আঙুলে মারাত্মক চোট পান গুরশরন। আঙুল ভেঙে যাওয়ায় সফর শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয় তাকে।
গুরশরনের সেই ভাঙা আঙুলই পরোক্ষভাবে বদলে দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথ। তার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়ে যান মুম্বাইয়ের ১৬ বছর বয়সী এক বিস্ময় তরুণ—শচীন টেন্ডুলকার।
এরপর যা ঘটেছিল তা ক্রিকেট ইতিহাসেরই অংশ। টেন্ডুলকার ২০০টি টেস্ট খেলে বিশ্ব ক্রিকেটের একের পর এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফিরে ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ডে অবশেষে টেস্ট অভিষেক হয় গুরশরনের।
তবে নিজের একমাত্র টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৩৮ বল খেলার সুযোগ পান তিনি, রান তোলেন মোটে ১৮। এরপর আর কখনোই জাতীয় দলের একাদশে ফেরা হয়নি তার। শেষ পর্যন্ত ১টি টেস্ট ও ১টি ওডিআই ম্যাচেই থমকে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থায়িত্বটা বড্ড সংক্ষিপ্ত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের আঙিনায় গুরশরন অত্যন্ত সম্মানিত এক নাম। আর ইতিহাস তাকে মনে রাখবে এমন এক ভাগ্যহত ক্রিকেটার হিসেবে, যার অনাকাঙ্ক্ষিত চোটই ক্রিকেট বিশ্বকে উপহার দিয়েছিল 'লিটল মাস্টার' শচীন টেন্ডুলকারকে।