Pakistan

আইয়ুবের শতকে উড়ল জ্যামাইকা কিংস, প্যাট্রিয়টসদের দুঃস্বপ্ন অব্যাহত

সায়েম আইয়ুবের ৫৮ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে ১১ রানের জয় পেয়েছে জ্যামাইকা কিংস। নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আইয়ুব, যার ফলে সিপিএল ২০২৬-এর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই আটকে রইল প্যাট্রিয়টস।

আইয়ুবের শতকে উড়ল জ্যামাইকা কিংস, প্যাট্রিয়টসদের দুঃস্বপ্ন অব্যাহত
Match imagery | Photo: ESPNcricinfo / © ESPNcricinfo Media

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।

ওয়ার্নার পার্কে সায়েম আইয়ুবের ৫৮ বলে ১০২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে ১১ রানের জয় তুলে নিয়েছে জ্যামাইকা কিংস। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন আইয়ুব। এই জয়ে জ্যামাইকা কিংসের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান যেমন মজবুত হলো, তেমনি সিপিএল ২০২৬-এ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের জয়ের খরা আরও দীর্ঘায়িত হলো।

ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি জ্যামাইকার। নাসিম শাহের বোলিং তোপে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল তারা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন আইয়ুব। এরপর নিজের বিধ্বংসী রূপ দেখিয়ে ৬ চার ও ৮ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। শেষ ৭ ওভারে ৯০ রান তোলায় জ্যামাইকা পায় ১৮২ রানের লড়াকু সংগ্রহ। রভম্যান পাওয়েলের ২১ এবং কিমো পলের অপরাজিত ২৫ রান বড় ভূমিকা রাখে। প্যাট্রিয়টসের নাসিম শাহ, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ওবেড ম্যাকয় দুটি করে উইকেট নেন।

১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্যাট্রিয়টসও শুরুতেই বিপাকে পড়ে। পাওয়ারপ্লে শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৪২ রান। আন্দ্রে ফ্লেচার ৩৮ বলে ৫৫ রান করে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন। ১৩ ওভার শেষে দুই দলের সংগ্রহই ছিল ৪ উইকেটে ৯১ রান। ঠিক তখনই ভেলকি দেখান সায়েম আইয়ুব। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফ্লেচারকে সাজঘরে ফেরান তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ফ্লেচারের বিদায়ের পর প্যাট্রিয়টসের রানের গতি কমে যায়। শেষদিকে জেসন হোল্ডার (৩৪) ও দাসুন শানাকা (অপরাজিত ৩৫) ঝড় তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষপর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৭১ রানে থামে তাদের ইনিংস। জ্যামাইকার পক্ষে জেডিয়াহ ব্লেডস ও হুনাইন শাহ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে আইয়ুবের হাতে। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখেন এই তরুণ তুর্কি, 'ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবি না, এগুলো আমার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনশেষে দল জিতলেই আমি খুশি।'

এই জয়ের ফলে জ্যামাইকা কিংসের ড্রেসিংরুমে এখন স্বস্তির হাওয়া। অন্যদিকে, টানা হারে দিশেহারা সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল।