ইমরান খান: বিশ্বকাপ জয় থেকে কারাবাস, স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন কারাবন্দি এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট কিংবদন্তি ও তার পরিবার মানবিক আচরণ ও জরুরি চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান এখন বন্দি। ক্রিকেট মাঠের এই কিংবদন্তি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কারাগারে, স্বাস্থ্য নিয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, যা মানবিক আচরণের জন্য বিশ্বজুড়ে আবেদন তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের 'কর্নার্ড টাইগার্স'-এর সেই অনুপ্রেরণাদায়ক নেতা, যিনি দেশকে একমাত্র বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন, পরে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে আসীন হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
তাঁর ক্রিকেট জীবনের সেরা মুহূর্ত এসেছিল ১৯৯২ সালে, যখন তাঁর আবেগঘন বক্তৃতা এক অপ্রত্যাশিত পাকিস্তানকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেয় এবং ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ৭২ রানের ইনিংস শিরোপা নিশ্চিত করে।
প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বন্দি এই কিংবদন্তির জন্য "মর্যাদাপূর্ণ আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসার" প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিধ্বনি।
ইমরানের পুত্ররা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি এক চোখে প্রায় ৮০% দৃষ্টি হারিয়েছেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে; ২০২৬ সালের প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে চোখের গুরুতর সমস্যা নিশ্চিত হয়েছে।
২০২২ সালে তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতাচ্যুতির পর শতাধিক মামলা দায়ের হয়, যার ফলে বেশ কয়েকটি দণ্ডাদেশ হয়েছে, যদিও কিছু আপিলে স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চৌদ্দজন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক মানবিক আচরণের জন্য আবেদন করেছিলেন, যা পরে ২১-২২ জন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠী দ্বারা জোরালোভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয়, যা জাতিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছাপিয়ে গেছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীরা ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে ব্যাপক, স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতির জন্য অনড় দাবি জানাচ্ছেন।