India

অভিষেকের ফিফটি ও ধোনির টুপি: এক ওয়ানডের পর হারিয়ে যাওয়া ফাইজ ফাজালের গল্প

এমএস ধোনির কাছ থেকে ক্যাপ পেয়ে অভিষেকেই অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ফাইজ ফাজাল। কিন্তু দুর্দান্ত ঘরোয়া ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও আর কখনো ভারতের জাতীয় দলে ফেরা হয়নি এই বাঁহাতি ওপেনারের।

অভিষেকের ফিফটি ও ধোনির টুপি: এক ওয়ানডের পর হারিয়ে যাওয়া ফাইজ ফাজালের গল্প
হারারেতে ভারতের হয়ে নিজের একমাত্র আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটিং করছেন বাঁহাতি ওপেনার ফাইজ ফাজাল। ছবি: এএফপি

এমএস ধোনির হাত থেকে অভিষেক ক্যাপ পাওয়া যেকোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের জন্যই আজীবনের স্বপ্ন। আর সেই অভিষেকেই যদি আসে অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি, তবে দলে জায়গা শক্ত হওয়ারই কথা। কিন্তু বাঁহাতি ওপেনার ফাইজ ফাজালের জন্য ২০১৬ সালে ভারতের নীল জার্সিতে প্রথম ম্যাচটিই হয়ে রইল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে নিজের অভিষেক ওয়ানডেতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গোড়াপত্তন করেছিলেন ফাজাল। ৬১ বলে ৫৫ রানের এক দায়িত্বশীল অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ১০ উইকেটের বড় জয় এনে দেন। কিন্তু দুর্দান্ত সূচনার পরও নির্বাচকদের নজর আর তার দিকে ফেরেনি। ফলে এক ম্যাচের পরেই জাতীয় দলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় তার জন্য।

ভাগ্যদেবতার এমন পরিহাস নাগপুরের এই ব্যাটারের জন্য নতুন কিছু ছিল না। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে হাত আঙুলে মারাত্মক চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যান তিনি। সেই বড় ধাক্কা সামলে নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছিল তাকে।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার সুযোগ পান ফাজাল। সেখানে লেগ-স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের অধিনায়ত্বে খেলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কৌশল ও ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

জাতীয় দলে দীর্ঘ সুযোগ না পেলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফাজাল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক অনন্য উচ্চতায়। পরবর্তীতে বিদর্ভ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে তিনি টানা দুই মৌসুম (২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯) ঐতিহ্যবাহী রঞ্জি ট্রফির শিরোপা জেতান দলকে, যা ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৯,১৮৪ রান ও ২৪টি শতক হাঁকিয়ে ক্রিকেটকে বিদায় জানান ফাজাল। ওয়ানডেতে শতভাগ ব্যাটিং গড় নিয়েও আর কখনো সুযোগ না পাওয়া ফাইজ ফাজালের গল্পটি ভারতীয় ক্রিকেটের অগাধ বিশ্বস্ততার পাশে এক করুণ নিয়তির ইতিহাস হয়ে থাকবে।